kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

উত্ত্যক্তকারীরাই হামলা চালাল হিন্দু বাড়িতে

সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুর প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সালিসে কাশেম মিয়া, লাইট মিয়া, মুসা মিয়া, মনির উদ্দিন, উজ্জ্বল, পাবেল মিয়া, রুহিত মিয়া, রইছ মিয়াসহ কয়েকজন যুবক হিন্দু পরিবারের মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী বলে প্রমাণিত হয়। তাদের কান ধরে উঠবস করিয়ে মৌখিক অঙ্গীকার করে ছেড়ে দেন স্থানীয় সালিসকারীরা। গুরুপাপে লঘুদণ্ড পাওয়া ওই যুবকরা এর পরে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বাড়ির আশপাশে এসে বখাটেপনার পাশাপাশি নিয়মিত খিস্তিখেউড় করে যেত। এসবের প্রতিবাদ করায় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হিন্দু পরিবারে হামলা চালিয়েছে। এতে আহত হয়েছে আটজন। গত বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাকাটুকিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত এক ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, টাকাটুকিয়া গ্রামের বর্মণপাড়ার স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছে কাশেম মিয়া, লাইট মিয়া, মুসা মিয়া, মনির, উজ্জ্বল, পাবেল মিয়া, রুহিত মিয়া, রইছ মিয়াসহ কয়েকজন যুবক। চার মাস আগে টাকাটুকিয়া গ্রামে জামালগড়, রসুলপুর ও টুকেরগাঁও গ্রামের গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে সালিসে অঙ্গীকার করে উত্ত্যক্তকারীরা। সে সময় সালিসকারীরা বখাটেপনার শিকার ছাত্রীদের পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নিতে অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের কান ধরে উঠবস করানো হয়। গত বুধবার দুপুরে টাকাটুকিয়া গ্রামের দেবেন্দ্র বর্মণের ছেলে প্রতিবাদী সঞ্চিত বর্মণকে রাস্তায় একা পেয়ে মারধর করে ওই যুবকরা। সঞ্চিতের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে সশস্ত্র বখাটেদল তাঁদের ওপরও চড়াও হয়। এক পর্যায়ে বখাটেদের সঙ্গে টুকেরগাঁও গ্রামের বিল্লাল মিয়ার নেতৃত্বে আরো ২০-২৫ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় যুক্ত হয়। টাকাটুকিয়া গ্রামের দেবেন্দ্র বর্মণের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে তারা। হামলাকারীরা স্কুলপড়ুয়া দুই ছাত্রীকেও লাঞ্ছিত করে। এ সময় শ্যামল আচার্যের বাড়িতে বাছিন্দ্র বর্মণ ও তাঁর ছেলে বাবলুকে কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলায় আহত হন দেবেন্দ্র বর্মণ (৭০), তাঁর ছেলে বাছিন্দ্র বর্মণ (৫০), সত্যেন্দ্র বর্মণ (৪৫), সঞ্চিত বর্মণ (৩০) বাছিন্দ্র বর্মণের স্ত্রী বিউটি বর্মণ (৪৫), ছেলে বাবলু বর্মণ (১৭), শিপলু বর্মণ (১৫) ও তাঁদের আত্মীয় দেবল বর্মণ (২২)। গুরুতর আহত দেবেন্দ্র বর্মণ, বাছিন্দ্র বর্মণ ও বাবলু বর্মণকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নিরীহ বর্মণ পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার খবর পেয়ে এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে এই ঘটনায় নিন্দা জানান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েও আহতদের সঙ্গে কথা বলে।

এদিকে এ ঘটনায় আহত সত্যেন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সিরাজ মিয়া ও শহিদ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত সত্যেন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে আমাদের স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এক পর্যায়ে এলাকার সালিসে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তারা আর এমন করবে না বলে অঙ্গীকার করে। পরে সালিসকারীরা তাদের কান ধরে ওঠবস করিয়ে ছেড়ে দেন। আমাদেরও সালিসকারীরা আইনের আশ্রয় নিতে বারণ করেছিলেন। এরপর থেকেই তারা আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। গতকাল এর জেরেই তারা হামলা চালিয়েছে।’

তাহিরপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, ‘টাকাটুকিয়া গ্রামের বর্মণপাড়ার মেয়েদের পার্শ্ববর্তী টুকেরগাঁও গ্রামের কিছু বখাটে উত্ত্যক্ত করত। এর জের ধরে বর্মণপাড়ার এক ছেলেকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করেছে টুকেরগাঁও গ্রামের ছেলেরা। তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন রক্ষা করতে গেলে তাঁদেরও মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’



সাতদিনের সেরা