kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ধন্দে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ধন্দে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

রাজধানীর রামপুরায় মহানগর আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করেন চল্লিশোর্ধ্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী মনির। আক্রান্তের ‘সর্বোচ্চ’ ঝুঁকিতে থাকলেও তিনি এখনো করোনার টিকা পাননি। টিকার জন্য নিবন্ধনও করেননি তিনি। কারণ হলো, কিভাবে নিবন্ধন করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

মনিরের মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা জানেন না যে কিভাবে অনলাইনে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হয়। সুমন নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘আমি তো টিকা নিতে চাই। তয় এহনো আমগো লাইগা আলাদা কোনো ব্যবস্থা করে নাই টিকার বিষয়ে।’ টিকার জন্য আবেদন করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে সুমন আরো বলেন, ‘আমি তো আবেদন করতে পারি না। আর আমার তো ফোনই নাই। তয় যদি আমগো লাইগা টিকা আসে, তয় কাউরে কইয়া অনলাইনে আবেদন করামু।’

মনির ও সুমন কাজ করেন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘মায়া জনকল্যাণ সমিতি’র হয়ে। সমিতির পরিচালক নূর আলম বলেন, ‘যাঁরা বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য আনার কাজ করেন, তাঁদের সবার আগে টিকা দেওয়া উচিত। তাঁদের টিকার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। সেই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণেরও দরকার আছে।’

এই সমিতির কর্মী হিসেবে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেন আরো ১০ জন। তাঁদের মধ্যে ডান্ডু ও কাশেম নামের আরো দুজনও জানিয়েছেন যে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে মোট পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন পাঁচ হাজার ৩৯১ জন। ইজারাদারের সংখ্যা ৭৫। এই ইজারাদারদের অধীনে আছে আরো কিছু সংস্থা, যাদের ‘প্রাইমারি কালেকশন সার্ভিস প্রভাইডার’ (পিসিএসপি) বলা হয়।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মোট পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা প্রায় চার হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৬০০ জন ডিএনসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পিসিএসপি আছে ২৬০টি। একেকটি পিসিএসপিতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন।

তাঁদের টিকার বিষয়ে সিটি করপোরেশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে—এমন প্রশ্নে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ‘টিকা নিতে কেউ আগ্রহ দেখালে তাঁর জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁরা বোঝেনই না টিকার প্রয়োজনীয়তা। ফলে তাঁদের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহই নেই। তবে আগ্রহীদের যেন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক অফিসগুলোকে বলা আছে।’

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন বলেন, ‘আমরা টিকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নিইনি। যাঁদের বয়স ৪০ বছরের বেশি, তাঁরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করলে টিকা পাবেন।’ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনলাইন ব্যবহারে অজ্ঞ—এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘তাঁরা অভিজ্ঞ। তাঁদের ফোন আছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। তার পরও যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে জানেন না, তাঁদের সহযোগিতা করতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।’



সাতদিনের সেরা