kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

হেফাজতের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, পদ ছাড়লেন এক নেতা

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার দুই শীর্ষ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি থেকে নাশকতা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের জেরে এই সংগঠনের নেতাদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হচ্ছে। অনেকেই বিব্রত হচ্ছেন। কেউ কেউ ভিন্নমত প্রদর্শন শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হেফাজত ছেড়েছেন এক নায়েবে আমির। তাঁর নাম মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান। তিনি বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন।

এদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল আদালতের নির্দেশে তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ। আর গতকাল রাতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যদিকে সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্ল্যাকে গতকাল রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর গাজীপুরের মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত ‘শিশু বক্তা’ হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী পর্নগ্রাফিতে আসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে আগে ও পরের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এহেন পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মতো মহান নেতৃত্বের শূন্যতা অনুভব করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামে যোগ্য নেতৃত্বের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের অঙ্গনে ভিন্ন দল ও ভিন্নমতাদর্শের মানুষ অনুপ্রবেশ করেছে এবং তারাই তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে হেফাজতে ইসলামকে অত্যন্ত সুকৌশলে মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে।’

মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান নিজের পদত্যাগের ঘোষণায় বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম এখন কিছু ব্যক্তির নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বিবেচনা করে আমি হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করলাম। আমার ইস্তফা প্রদানে কে বেজার হলো, কে খুশি হলো—এটা আমার দেখার বিষয় নয়, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার হেফাজতে ইসলাম থেকে ইস্তফা প্রদান ইসলাম, দেশ ও জাতির অধিকতর কল্যাণের লক্ষ্যে। এখন থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলন নেবে না।’

পুলিশ সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস হামিদীকে কেরানীগঞ্জের মডেল থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে গতকাল ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁর সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।

এদিকে গতকাল রাতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার মীরহাজিরবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্ল্যাকে গতকাল রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর জানান, শিশু বক্তা হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে দায়ের দুই মামলায় পর্নোগ্রাফি ধারা যুক্ত করা হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) ইলতুৎ মিশ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের সময় মাদানীর মোবাইল ফোন জব্দ করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তিনি নিয়মিত পর্ন ভিডিও দেখতেন। ওই ভিডিও দেখার দিন-তারিখ এবং সময়ও জানা গেছে।

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, জেলহাজতে থাকা রফিকুলকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল সকালে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১৫ এপ্রিল এর শুনানি হবে।