kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

বিধি-নিষেধ মানলে দুই সপ্তাহের মাথায় সংক্রমণ কমবে

ড. মুশতাক হোসেন

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিধি-নিষেধ মানলে দুই সপ্তাহের মাথায় সংক্রমণ কমবে

আমি ‘লকডাউন’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাই না। তবে বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা যাই বলি না কেন, সামগ্রিকভাবে সরকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যে ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা নিজের সুরক্ষার জন্যই সবার মেনে চলা উচিত। সংক্রমণ বিস্তার রোধে এর বিকল্প কিছু এখনো নেই। বরং প্রয়োজনে সরকারকে আরো কঠোর হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে ভবিষ্যতে; যেমনটা অনেক দেশেই করতে হয়েছে। কারণ হচ্ছে আমরা সবাই যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলতে পারি তবে আমি অনেকটাই নিশ্চিত যে চলতি মাসের শেষে গিয়ে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি অর্থাৎ সংক্রমণ কমে যাবে এবং তার পরের সপ্তাহে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে যাবে।

বিশেষ করে রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুসারে এক সপ্তাহ সব কিছু নিয়মমাফিক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তার পরের সপ্তাহ বাদ দিয়ে বা মোট দুই সপ্তাহ পর থেকে এর প্রভাব বা ফলাফল দেখা যাবে এবং মৃত্যুর ওপর প্রভাব পড়বে তিন সপ্তাহের মাথায়। যেমনটা এখন যারা মারা যাচ্ছে তারা কিন্তু এখনই আক্রান্ত হয়নি, তারা আক্রান্ত হয়েছে এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে, আবার এখন যারা আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে যে কয়জনকেই আমরা হারাব বা মারা যাবে সেটা হবে আরো দুই সপ্তাহ পরে। এখন প্রতিদিন যে সংখ্যায় শনাক্ত হচ্ছে এর প্রতিফলন কিন্তু একই দিনের মৃত্যুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। এই যেমন গত ৯ দিনে যতটুকু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে তার ফলাফল আমরা দেখব আগামী সপ্তাহে। বিশেষ করে সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান ও পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থেকেও কিছুটা হলেও সুফল তো আসবেই। অর্থাৎ মোটেই কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরো অনেক বেশি খারাপ হতো। সেটার কিছুটা লাগাম টানা গেছে।

ফলে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব সবাই যেন নিজের জন্য, পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য, সমাজের মানুষের জন্য—সার্বিকভাবে দেশের সামগ্রিক সুরক্ষার স্বার্থে নির্দেশনা মেনে চলি। তা না হলে সরকারকে হয়তো আরো কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিতে হতে পারে; যা মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির জন্য কাম্য নাও হতে পারে।

    

লেখক : উপদেষ্টা, আইইডিসিআর



সাতদিনের সেরা