kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

দেবহাটার ‘মৌমাছি পরিবার’

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেবহাটার ‘মৌমাছি পরিবার’

সাতক্ষীরার দেবহাটার কোঁড়া গ্রামে শেখ আবু সাঈদের বাড়িতে বসেছে মৌমাছির ২৬টি চাক। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাতক্ষীরার দেবহাটার কোঁড়া গ্রামে দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাসাটির মালিক শেখ আবু সাঈদ। কিন্তু দেখলে মনে হবে, বাসাটির মালিক মৌমাছি। পুরো বাসাই মৌমাছির ‘দখলে’ চলে গেছে। বারান্দা থেকে শুরু করে দেয়াল—সব স্থানেই বাসা (চাক) বেঁধেছে মৌমাছি। প্রতিদিনই কোঁড়াসহ আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এই বাসা দেখতে আসে। তাদের কাছে সাঈদের বাসা মানেই মৌমাছির বাসা। আর পুরো পরিবারটি হচ্ছে ‘মৌমাছি পরিবার’।

জানা যায়, সাঈদ পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী। আট বছর আগে বাসাটি নির্মাণ করেন তিনি। দিন দিন তাঁর বাসায় মৌমাছির আনাগোনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে মৌমাছির দল পুরো বাসাই ‘দখল’ করে নেয়।

সাঈদ বলেন, ‘এ বছর ২৬টি মৌমাছির দল এসেছে। গত আট মাসে দুইবার চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন। ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করা মধু কিনে নিয়ে যান। বছরে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি হয়। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজন নেয়। গ্রামের বিভিন্ন মানুষ তাদের প্রয়োজনে খাঁটি মধু সংগ্রহ করে আমাদের কাছ থেকে।’ 

সাঈদের স্ত্রী রনজিলা বেগম বলেন, ‘প্রথম দিকে হুল ফোটাতে পারে এই ভয় পেলেও এখন আর ভয় লাগে না। মৌমাছি আমাদের কাউকে আক্রমণ করে না, কামড়ায় না। মৌমাছিগুলোকে সন্তানের মতো মনে হয়। একবার কে বা কারা চুরি করে এসে মৌচাকে বিষ স্প্রে করে। তাই অনেক মৌমাছি মারা যায়। সে সময় মৌমাছিরা এক রাতের মধ্যেই অন্য কোথাও উড়ে চলে যায়। পরের বছর আবারও সেই জায়গায় এসে বাসা বাঁধে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৌমাছির কারণে গৃহস্থালির কাজে কোনো সমস্যা হয় না। চাক থেকে প্রতিবছর অনেক মধু পাই। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর মধু বিক্রি করি। মৌমাছিগুলো আমাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।’ 

মধু সংগ্রহকারী ইসমাইল হোসেন জানান, মৌমাছি সাধারণত গাছের উঁচু ডালে কিংবা বারান্দায় বাসা করে। এরা অনেক শান্ত। তবে রেগে গেলে নিস্তার নেই। গ্রামের চাকের মধুতে হরেক রকম ফুলের মধু থাকায় এটি বেশি কড়া। খেতেও অনেক স্বাদ। মৌচাকে থাকা রানির জায়গা পছন্দ হলে প্রতিবার একই স্থানে এরা বাসা করে।’  

এ বিষয়ে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন বলেন, ‘মৌ চাষ খুবই লাভজনক। তবে যাদের বাসায় মৌমাছি চাক বাঁধে, তাদের একপ্রকার বিনা পরিশ্রমে বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দেয়। তা ছাড়া ছাদের ঝুলন্ত অংশে মৌচাক দেখতেও ভালো লাগে। সাঈদের বাসায় যে মৌচাক আছে, তা আমি নিজেও অনেকবার গিয়ে দেখেছি। যদি কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে মৌ চাষ শুরু করেন, আমি মনে করি তিনি সফল হবেন। কারণ মধু সব রোগের মহৌষধ। তাই এর চাহিদা ও দাম রয়েছে যথেষ্ট।’