kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

টিসিবির ট্রাকের পেছনে ‘নতুন মুখ’ বাড়ছে

‘শুরু হচ্ছে লকডাউন তুলনামূলক কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে এখানে এসেছি’

এ এস এম সাদ   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিসিবির ট্রাকের পেছনে ‘নতুন মুখ’ বাড়ছে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে একের পর এক কঠোর বিধি-নিষেধে বেড়ে চলেছে দারিদ্র্য। লকডাউনের আদলে চলা কঠোর বিধি-নিষেধে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের আয় কমেছে। তাঁদের অনেকে চাকরি হারিয়ে দরিদ্রের কাতারে নেমে যাচ্ছেন। তার পরও এই শ্রেণিভুক্তরা সহজে তা প্রকাশ করেন না বা করতে চান না।

পবিত্র রমজান ও লকডাউনে ভোগ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে কিছুটা কম দামে ট্রাকে করে ভোগ্যপণ্য বিক্রি করছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা সাধারণত এতে আগ্রহ দেখায় না। তবে বর্তমান সময়ের চিত্র ভিন্ন। করোনাভাইরাস মানুষকে কতটা বিপাকে ফেলেছে, তা টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়ানো মুখগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড় দিন দিন বাড়ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শিয়া মসজিদসংলগ্ন সড়কে টিসিবির ট্রাকের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ ও ডাল কেনার চেষ্টা করছিলেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা আসাদ (ছদ্মনাম)। এখানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টিসিবি ছয়টি পণ্য বিক্রি করছে। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর আসাদকে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। এক বছরেও আগের পদবি ও পারিশ্রমিকে কোথাও চাকরি পাচ্ছেন না। খণ্ডকালীন একটি চাকরি জোগাড় হলেও আগের চেয়ে আয় কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। কিছুটা সংকোচের সঙ্গে তিনি বললেন, ‘ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে শুরু হচ্ছে লকডাউন। তুলনামূলক কিছুটা কম দামে পণ্য কিনতে এখানে এসেছি।’

শ্যামলীতে টিসিবির আরেকটি ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডাল ও চিনি কেনার অপেক্ষায় ছিলেন স্কুলশিক্ষক মঞ্জুরি আজাদ (ছদ্মনাম)। স্বামীর পাশাপাশি তাঁরও একটি আয়ের উৎস থাকায় সংসারটা ভালোই চলছিল। কিন্তু গত বছর থেকেই স্কুল বন্ধ। তাঁর ব্যক্তিগত কোচিংও গত বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকা আয়ের পুরোটাই বন্ধ। তিনি বলেন, ‘আগে তিন রুমের ভাড়া বাসা ছেড়ে ছোট দুই রুমের একটি বাসায় উঠেছি। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। এখন কোনো পণ্য কিনে পাঁচ টাকা বাঁচাতে পারা মানেই আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্তের কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) ২০২০ সালের এক গবেষণা বলছে, করোনার প্রকোপে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.৩০ শতাংশ।

সিপিডির রিসার্চ ডিরেক্টর খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘মধ্যবিত্ত থেকে মানুষ নিম্নবিত্তের কাতারে চলে যাচ্ছে। সামগ্রিক অর্থে মধ্যবিত্তরাও দৈন্যদশা অতিক্রম করছে। করোনায় গত বছরই অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। এতে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমেছে। আবার এবারের লকডাউন মধ্যবিত্তের জন্য অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’



সাতদিনের সেরা