kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

সবুজবাগে নারীর লাশ

পাঁচতলার নতুন ভাড়াটিয়া ঘিরে রহস্যের জট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচতলার নতুন ভাড়াটিয়া ঘিরে রহস্যের জট

রাজধানীর সবুজবাগ থানার দক্ষিণগাঁওয়ে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের পর তিন দিনেও এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়নি। গত শনিবারের ওই ঘটনায় বাড়িওয়ালার ছেলে মামুন ও পাঁচতলার নতুন ভাড়াটিয়া সাজ্জাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে পাঁচতলার ভাড়াটিয়াকে ঘিরেই রহস্য জট পাকিয়ে আছে বলে ধারণা পুলিশের।

সাজ্জাদ চলতি এপ্রিল মাসের ১ তারিখে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে পাঁচতলাবিশিষ্ট ওই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। বাড়ির মালিক সাজেদা নাসরিন ও ভবনের অন্য বাসিন্দার ধারণা, নিহত ওই নারী সাজ্জাদের স্ত্রী। তবে সাজ্জাদের স্ত্রীকে বাড়ির মালিকের ছেলে মামুন ছাড়া ভবনের আর কেউ দেখেননি। তাই ঘটনার পর লাশ দেখেও কেউ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।

পুলিশের ধারণা, নিহত নারী সাজ্জাদের স্ত্রী নয়; তাঁকে বাইরে থেকে আনা হয়েছে। পরে ধর্ষণ করে কুপিয়ে মারা হয়েছে। তবে সাজ্জাদের দুই স্ত্রী। এক স্ত্রী থাকেন গ্রামের বাড়িতে। অন্য স্ত্রীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এদিকে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কোনো পরিচয়পত্র বা ফরম পূরণ করাননি বাড়ির মালিক। শুধু প্রবাসফেরত ছিলেন এতটুকুই জানতেন। তাই ওই নারী সাজ্জাদের স্ত্রী নাকি বাইরে থেকে তাঁকে আনা হয়েছে এ নিয়ে রহস্যের জট রয়ে গেছে ভবনের বাসিন্দাদের কাছেও।

গতকাল সোমবার দক্ষিণগাঁও শাহী এলাকার ৯২/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, মূল গেটে নেই কোনো সিসিটিভি, সিকিউরিটি বা দারোয়ান। বাসিন্দারা জানান, এ মাসেই পাঁচতলায় নতুন ভাড়াটিয়া আসার খবর তাঁরা শুনেছেন। তবে পরিচয় হয়নি। এ ঘটনার পর থেকে পাঁচতলার ওই ফ্ল্যাটে কাউকে দেখাও যায়নি।

বাড়ির মালিক সাজেদা নাসরিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মাসেই পাঁচতলায় ছোট ছেলে মামুনের মাধ্যমে এক ভাড়াটিয়া উঠল। তাদের কোনো কাগজপত্র বা ফরমও পূরণ করা হয়নি। তাদের আমি চিনিও না। ভাড়াটিয়ার স্ত্রী-ই বা কোথায় গেল বুঝে উঠতে পারছি না।’

সবুজবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আটক দুজনকে আজ (গতকাল) আদালতে হাজির করলে চার দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে বাইরে থেকে এনে ধর্ষণ করে কুপিয়ে মারা হয়েছে। অন্যদিকে আটক সাজ্জাদের এক স্ত্রীর পরিচয় পাওয়া গেলেও ডিভোর্সকৃত আরেক স্ত্রীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়টিসহ কয়েকটি দিক নিয়ে আমরা কাজ করছি।’