kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

জলে ভাসল বৈসাবির ফুল

মহামারি থেকে মুক্তির প্রার্থনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলে ভাসল বৈসাবির ফুল

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ফুল ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পার্বত্য জনপদের প্রধানতম উৎসব বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার সংক্রমণের উল্লম্ফনে আবারও বিপদ্দশায় পুরো পৃথিবী। এই সংকট থেকে উত্তরণে দেশে দেশে বলবৎ করা হচ্ছে নানা বিধি-নিষেধ। ফলে গেল বছরের মতো এবারও নিয়মের বেড়াজালে পড়ে সীমিত আয়োজনে পালিত হচ্ছে পার্বত্য জনপদের প্রধানতম উৎসব ‘বৈসাবি’।

গতকাল সোমবার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন নদী, জলাশয়, প্রবাহমান ছড়া-খালে ফুল ভাসিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা। ফুল বিজুর ফুল কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসিয়েছে চাকমা ও ত্রিপুরা তরুণ-তরুণীরা। প্রথা অনুসারে ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ফুল ভাসিয়ে বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে মুক্তির জন্য গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

২৯ চৈত্র চাকমা জনগোষ্ঠীর ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ের সূচিকাজ। ঠিক ‘ফুল বিজু’ নামে অভিহিত না হলেও এ দিন প্রায় সব পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী পানিতে ফুল ভাসায়। এতে অগ্রগণ্য থাকে চাকমা ও ত্রিপুরারা।

উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমারা বন থেকে ফুল আর নিমপাতা সংগ্রহ করে এবং পবিত্র এই ফুল ভাসিয়ে দেয়, তাই একে বলা হয় ‘ফুল বিজু’।

রাঙামাটির রাজবাড়ী ঘাটে ফুল ভাসাতে আসা অমৃতা চাকমা বলেন, বিশ্ব যেন করোনা থেকে মুক্তি পায়, সেই প্রার্থনা করা হয় গঙ্গা দেবীর কাছে।

মহামারির কারণে সপ্তাহব্যাপী উৎসবের সব আয়োজন বাতিল করার কথা জানান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা। ফলে আনন্দ শোভাযাত্রা, শঙ্খ নদীতে বুদ্ধমূর্তি স্নান, পিঠা উৎসব, মৈত্রী পানিবর্ষণসহ কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা করা হবে না। একই কারণে এ বছর খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী ‘গয়রা’ নৃত্য ও মারমাদের জলকেলি বা পানি ছিটানো উৎসব হচ্ছে না।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি ও রাঙামাটি প্রতিনিধি]