kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

অক্সিজেনের দাম বাড়ছে সিলেটে

করোনা চিকিৎসায় নানামুখী সংকট

সিলেট অফিস   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অক্সিজেনের দাম বাড়ছে সিলেটে

সিলেটে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সিলেটের হাসপাতালগুলোতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর চাপ। বিশেষ করে হাসপাতালের আইসিইউতে চাপ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে অনেকে অক্সিজেন কিনে বাসায় মজুদ করছে। এতে চাহিদা বাড়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের দামও বেড়ে চলেছে। বাড়ছে অক্সিমিটারের দামও। সেই সঙ্গে ফ্লো মিটারের মতো অনুষঙ্গেরও সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এভাবে অক্সিজেন ব্যবহার ঠিক নয়, কিন্তু সেদিকে কর্ণপাত করছে না কেউ।

সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ডায়ালিসিস রোগীদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ১৪টি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য। গত ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে এই হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা পরিপূর্ণ। কোনো রোগী মারা গেলে কিংবা সুস্থ হলেই কেবল মিলছে আইসিইউ শয্যা। এ ছাড়া নগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা থাকলেও তা ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু হাসপাতালে সাধারণ শয্যার পাশাপাশি আইসিইউ সংকট তীব্র হওয়ায় অনেকে বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ সময়ে যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পুরো সেট ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে কমে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা গেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান আবার সুযোগ বুঝে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকাও হাঁকছে ক্রেতাদের কাছে। অতিরিক্ত দাম চাওয়ার বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, প্রচুর মানুষ আসছে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে। এতে হঠাৎ চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। ফলে দাম বেড়েছে।

নগরের নয়াসড়ক এলাকার বাসিন্দা মিজান চৌধুরী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে সিট মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। আমার মা-বাবা দুজনই শ্বাসকষ্টের রোগী। তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

সিলেটে চিকিৎসাসামগ্রী বিক্রির অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান মেডিমার্টের মীরবক্সটুলা শাখায় কথা হয় রূপেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘নতুন করে সিলিন্ডার আমাদের প্রতিষ্ঠানে এখনো তোলা হয়নি। তবে বাজারে সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। আমরা যে সিলিন্ডার ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করছি, তা বাজারে এখন ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

নগরে চৌহাট্টা এলাকার চিকিৎসাসামগ্রী বিক্রেতা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ হঠাৎ করে বাড়তে থাকায় বাজারে সিলিন্ডারের চাহিদা ব্যাপক। চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। আমরা এখন ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছি।’ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে দোকানে আসছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঙ্গে ট্রলি, ফ্লো মিটার, ক্যানুলা ও মাস্ক দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ফ্লো মিটারের সংকট রয়েছে। সরবরাহ নেই বললেই চলে। আমি ১০ দিন আগে অর্ডার দিয়েও ফ্লো মিটার পাচ্ছি না।’

হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে বাসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার কেনার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা বিপজ্জনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিলিন্ডারের ব্যবহার মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাউকে অক্সিজেন দেওয়া উচিত নয়। শুধু অক্সিমিটারে সিচুরেশন কম দেখলেই যে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া যাবে, বিষয়টি এমন না। একজন চিকিৎসকই বুঝতে পারবেন কোন রোগীর কখন অক্সিজেন লাগবে।’ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অক্সিজেন বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি তার বাসায় একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ করে রাখে, তাহলে প্রয়োজনের সময় অন্য একজন রোগী হয়তো অক্সিজেন পাবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনেরও নজর দেওয়া উচিত।’