kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

বর্ষবরণেও ‘লকডাউন’

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা নববর্ষ বরণে নবসাজে এবার সাজবে না ঢাকা। বাজবে না ঢাকঢোল। বসবে না বাহারি পণ্যের বৈশাখী মেলা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হবে না হালখাতা। করোনার বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতির ফের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এর ওপর নববর্ষের প্রথম দিন থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। ফলে দেশের কোথাও নববর্ষ উদযাপনে কোনো আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ থাকছে না।

তবে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেসকোর তালিকায় স্থান পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল শোভাযাত্রা ‘প্রতীকীভাবে’ করার পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং লকডাউন বিবেচনা করে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সশরীরে কোনো মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হবে না।

তবে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

করোনা মহামারির কারণে গত বছরও ঐতিহ্যবাহী এই মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়নি।

অন্যদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রমনা বটমূলে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের প্রভাতি অনুষ্ঠান এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরাসরি করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ছায়ানট। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা জানান, প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত ছিল দর্শকশূন্য অবস্থায় রমনায় অনুষ্ঠান আয়োজনের। সে লক্ষ্যে সম্মেলক দলের নিয়মিত মহড়াও চলছিল। কিন্তু কয়েকজন শিল্পী ও কর্মীও করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সে চিন্তা বাদ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।

তিনি জানান, পুরনো ও নতুন পরিবেশনের মিশ্রণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। মানুষের মঙ্গল কামনা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে উজ্জীবনী গান, বাণী ও কথন দিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। বাংলা নববর্ষের প্রথম ভোরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ওই ঘণ্টাখানেকের সংকলন সম্প্রচার করবে।

শেষ মুহূর্তে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল হওয়ার আগে এর প্রস্তুতি সম্পর্কে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেছিলেন, একদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, অন্যদিকে দেশে মৌলবাদীদের আস্ফাালন লক্ষ করা যাচ্ছে। হতাশা কাটিয়ে জীবনের জয়গান গাওয়ার জন্যই এবং অপশক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানোর জন্যই সীমিত পরিসরে এবারের আয়োজন হচ্ছে। ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর’ কাজী নজরুল ইসলামের এই বাণীকে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।