kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

‘লকডাউনে’ ঢাকায় শ্রমজীবী ক্যান্টিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘লকডাউনে’ ঢাকায় শ্রমজীবী ক্যান্টিন

রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে শ্রমজীবী ক্যান্টিনে প্রতিদিনই বিনা পয়সায় মেলে খাবার। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা মহামারিতে আয় কমে গেছে। প্রতিদিনের সংসারের খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ফুটপাতের হোটেলগুলো বন্ধ। প্রাতিষ্ঠানিক হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা আছে শর্ত মেনে। সেখানে বসে খাবার খাওয়া বারণ। তা ছাড়া ওই সব রেস্তোরাঁয় খাওয়ার আর্থিক সংগতিও নেই। এ অবস্থায় রাজধানীর হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষগুলো বিপাকে পড়েছে। এই সব মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’।

রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে শ্রমজীবী ক্যান্টিনে প্রতিদিনই বেশকিছু মানুষ দুই বেলা বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর পুরানা পল্টন মোড়ে মুক্তি ভবনের নিচে এই ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’ খুলেছে বামপন্থী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন। শ্রমজীবীদের মধ্যে বিনা মূল্যে খাবার সরবরাহের জন্য গত ৬ এপ্রিল এই ক্যান্টিন চালু হয়েছে। সকাল থেকে সংগঠনের কর্মীরা বাজার ও রান্নার কাজ শুরু করেন। দুপুর থেকে খাবার বিতরণ শুরু হয়। চলে রাতে খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত। রান্নার পর প্যাকেট করে খিচুড়ি-ডিম ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হয়। কেউ কেউ বাড়িতেও নিয়ে যান।

সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ক্যান্টিনের সব ধরনের কাজ করছেন ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন কর্মীরা। বাজার করা থেকে শুরু করে রান্না করে শ্রমিকের হাতে খাবার তুলে দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা শ্রম দিচ্ছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। খাবার বিতরণের পাশাপাশি করোনা সচেতনতা নিয়েও কাজ করছেন তাঁরা। মাস্কও বিতরণ করা হচ্ছে।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লকডাউনে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকারদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। আমরা ইতিহাস অর্পিত দায়িত্ব থেকে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিনা মূল্যে দুই বেলা খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

সরকারের বিধি-নিষেধ বা লকডাউন যত দিন চালু থাকবে তত দিন এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম। তিনি জানান, জনগণের অনুদানের টাকায় শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালু হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ও রাতে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মিরপুর এবং কাফরুলেও একই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব থানার পাশাপাশি সারা দেশে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।