kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার হালচাল

আইসিইউ যেখানে রোগী সেখানে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আইসিইউ যেখানে রোগী সেখানে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে চট্টগ্রামে গত প্রায় এক মাসে বেশ কয়েকটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে এখানে দুই ডজনের বেশি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসাসেবা চলছে। যেসব হাসপাতালে আইসিইউ আছে, সেখানে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। আর যেসব হাসপাতালে আইসিইউ, এইচডিইউ ও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার ব্যবস্থা নেই, সেখানে রোগীও পাওয়া যাচ্ছে কম।

পাঁচ দিন আগে নগরের আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের লালদীঘি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছে। তবে সেখানে রোগীর খুব একটা দেখা নেই। গতকাল শনিবার খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই আইসোলেশন সেন্টারে কভিডে আক্রান্ত চারজন পুরুষ ও দুজন নারী চিকিৎসাধীন।

কয়েক শ গজ অদূরে সরকারি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। সেখানে বর্তমানে ১০ শয্যার আইসিইউয়ের মধ্যে আটটিতে করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ১৪০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডের মধ্যে ৯২ জন করোনা রোগী ভর্তি আছে।

বেসরকারি উদ্যোগে নগরের পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বুধবার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বন্দর ইপিজেড পতেঙ্গা করোনা আইসোলেশন সেন্টার চালু হলেও গতকাল পর্যন্ত সেখানে একজন রোগীও ভর্তি হয়নি।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউয়ের সব কটিতে করোনা রোগী ভর্তি আছে। আরো প্রায় ২০০ শয্যার (রেড ও ইয়েলো জোন) মধ্যে ১৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

এদিকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৩২ শয্যার মধ্যে ছয়জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ১৪ জন। সরকারি এই হাসপাতালে নেই কোনো আইসিইউ।

বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউয়ের সব কটিতে করোনা রোগী এবং ৫২ শয্যার আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ৬১ জন। একই অবস্থা ম্যাক্স, সিএসসিআর, রয়েলসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে।

গতকাল দিনভর নগরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইসিইউ, এইচডিইউ, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সুবিধা আছে এমন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চাপ বেশি। এর মধ্যে চমেক হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। সরকারি এই দুটি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে করোনা চিকিৎসাসেবা আছে এমন অন্তত ২০টি হাসপাতালের মধ্যে ১০টিতেই রোগী বেশি। এর মধ্যে পার্ক ভিউ, ম্যাক্স এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে নির্দিষ্ট শয্যার বাইরেও রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।

আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী কালের কণ্ঠকে জানান, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারে রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অক্সিজেনের (বোতলজাত) ব্যবস্থা থাকলেও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা খুঁজছে অনেকেই। কিন্তু সেটি না থাকায় অনেকেই ফিরে যাচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে অনেকেই আইসিইউ খোঁজে। আজকে (শনিবার) আমাদের করোনার ১০টি আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৭১ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন।’

পার্ক ভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের ১০টি আইসিইউয়ের পাশাপাশি ৫২ শয্যার আইসোলেশনে এখন ৬১ জন ভর্তি আছেন।’

ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘১২ শয্যার আইসিইউতে এখন শয্যা খালি নেই। ৫৬টি আইসোলেশন শয্যায় ৬০ জন রোগী আছে। এর মধ্যে তিনজন একই পরিবারের।’

বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘আইসিইউ না থাকলেও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে। আগে দৈনিক দু-একজন রোগী ভর্তি হলেও এখন তিন-চারজন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে।’

বন্দর-ইপিজেড-পতেঙ্গা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. হোসেন আহমেদ বলেন, ‘গত বুধবার থেকে ৫০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টার চালু করেছি। কোনো রোগী এখনো রোগী ভর্তি না হলেও আউটডোরে দৈনিক তিন-চারজন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আইসোলেশন সেন্টারে অক্সিজেন থাকলেও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা নেই। এ কারণে হয়তো রোগী ভর্তি কম হচ্ছে।’