kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

স্মরণসভায় বক্তারা

নতুন প্রজন্মের প্রেরণা রাখী দাশ পুরকায়স্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী নেত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রাখী দাশ পুরকায়স্থকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন তাঁর সুহৃদ ও সহযোদ্ধারা। তাঁরা বলেছেন, তিনি (রাখী) ছিলেন দেশপ্রেমিক, দক্ষ সংগঠক। কাজের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল ঝোঁক। টেকসই নারী আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে তিনি ছিলেন আপসহীন, যা নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হয়ে আছে।

গতকাল শনিবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমির সঞ্চালনায় সভায় বত্তৃদ্ধতা করেন রাখী দাশ পুরকায়স্থের জীবনসঙ্গী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সাম্পাদক সীমা মোসলেম, বাংলাদেশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, হিল উইমেনস ফেডারেশনের সাবেক সভানেত্রী চৈতালী ত্রিপুরা প্রমুখ।

সংগীতশিল্পী জান্নাত-এ-ফেরদৌসী লাকীর পরিবেশিত গানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভায় জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন আবৃত্তিকার রূপশ্রী চক্রবর্তী। সভায় যুক্ত ছিলেন রাখী দাশ পুরকায়স্থের বোনের মেয়ে দেবারতি ভৌমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন কণা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তবারক হুসাইন প্রমুখ।

সভায় সুলতানা কামাল বলেন, ‘রাখী দাশ আমার কাছে একজন নারী আন্দোলনের কর্মী। আমার মায়ের (কবি সুফিয়া কামাল) সাথে তাঁদের ছিল সাংগঠনিক যোগাযোগ। তাঁর মৃত্যুতে একজন বন্ধুকে যেমন হারিয়েছি, তেমনি নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার আন্দোলনের এক সাহসী নেতাকে হারিয়েছি।’

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার জীবনের যা কিছু অর্জন, সবকিছুর পেছনে রাখী জড়িত। সার্বক্ষণিক রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে আমার জড়িত থাকার পেছনে তাঁর অবদান অনেক। তাঁকে হারিয়ে আমি অভিভাবকহীন।’ মানবসংগ্রামের যে লড়াই তিনি করে গেছেন, সে লড়াই পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সীমা মোসলেম বলেন, তাঁর সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া, মুক্তিযুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নেওয়াসহ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হওয়াসহ নানা বর্ণাঢ্য স্মৃতি রয়েছে। তাঁর সাধনার মূলে ছিল প্রগতিশীলতা এবং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

সভায় বক্তারা বলেন, রাখী দাশের নিজের প্রতি উদাসীনতা থাকলেও সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা।