kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

পয়োনিষ্কাশনের লাইন এবার নতুন ড্রেনে!

♦ ডিএনসিসির নিষেধ না মেনে ভবন মালিকরা পয়োনিষ্কাশনের লাইন দিচ্ছে স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনে
♦ ২০২৭ সালের মধ্যে পুরো ঢাকাকে স্যুয়ারেজ লাইনের আওতায় আনবে ওয়াসা

শম্পা বিশ্বাস   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লা থেকে জহুরি মহল্লা। চলছে স্টর্ম ওয়াটার (বৃষ্টির পানি) ড্রেনের কাজ। আগেও এখানে ছিল ড্রেন, সেই ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এলাকার বেশির ভাগ ভবনের পয়োনিষ্কাশন লাইন। পুরনো ড্রেন ভেঙে এখন ওই এলাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন ড্রেন। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্দেশ না মেনে নতুন ড্রেনগুলোতে ভবন মালিকরা আবারও সংযোগ দিচ্ছেন বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের লাইন।

গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি ৩১ মার্চের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকার সব বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার পয়োনিষ্কাশনের লাইন স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন, খাল, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয় থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই সময়ের মধ্যে বাসাবাড়িসহ সব স্থাপনার অবৈধ পয়োনিষ্কাশন লাইন নিজ উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন করে সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল স্থাপন করে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে চলে গেছে আরো ১০ দিন। এখনো কোনো ভবন মালিককে স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন থেকে পয়োনিষ্কাশনের লাইন বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। উল্টো মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের মালিকরা নতুন করে পয়োনিষ্কাশনের লাইন দিচ্ছেন স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনে।

ড্রেনের সঙ্গে নতুন করে বাড়ির পয়োনিষ্কাশনের লাইন দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানালেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সলিমউল্লাহ সলু। তিনি বলেন, ‘যাদের পুরনো বাড়ি, তাদের অনেকেরই সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা নেই। আর নতুন করে যারা বাড়ি করছে, তারা তো সেপটিক ট্যাংক করেই না। সবার বাসার স্যুয়ারেজের লাইন নতুন করে এখন সেই ড্রেনে দিয়ে দিচ্ছে। ওই সময় সিটি করপোরেশন কী করল, দিতে দিল কেন?’

বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক নেই শ্যামলীর বাসিন্দা শামীম হাসানের। নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরনো বাড়ি আমার। নতুন করে ভেঙে সেপটিক ট্যাংক করা সম্ভব না। তাই স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনের সঙ্গে বাসার পয়োনিষ্কাশনের লাইন দিছি। তবে ওয়াসা যখন এ এলাকায় পয়োনিষ্কাশনের জন্য স্যুয়ারেজের লাইন দেবে, তখন এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসার টয়লেটের লাইনটা সেখানে দিয়ে দেব।’

গত ৩ এপ্রিল মেয়র আতিকুল ইসলাম মহাখালী করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আসলে সবাইকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম, যাতে নিজ দায়িত্বে সবাই ড্রেন থেকে পয়োনিষ্কাশনের লাইন বিচ্ছিন্ন করে। এখনো যারা এটা করেননি তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। খুব শিগগিরই আমরা অভিযানে নামছি। যাদের পয়োনিষ্কাশনের লাইন সরাসরি খালে বা ড্রেনে দেওয়া আমরা তাদের সংযোগে কলাগাছ পুঁতে দেব, যাতে লাইন বন্ধ হয়ে যায়।’

এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের লোক মাঠে কাজ করছে। তারা কিছু ভবন চিহ্নিত করেছে। দ্রুত আমরা এটা নিয়ে অ্যাকশনে যাচ্ছি। গুলশান, বনানী, বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার লোকজন দিয়েই আমরা এই অভিযান শুরু করছি। এটা খুবই দুর্ভাগ্য যে তারা এত টাকা দিয়ে বাড়ি বানাচ্ছে, তবে সেখানে কোনো সেপটিক ট্যাংক রাখছে না।’

ডিএনসিসি বলছে, বারিধারা সোসাইটি এলাকার পয়োনিষ্কাশনের লাইন সরাসরি গিয়ে পড়ছে বারিধারা লেকে। এ ব্যাপারে বারিধারা সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের বাইরে, এটা বাড়ির মালিকদের বিষয়।

এদিকে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। সারা ঢাকা শহরে স্যুয়ারেজ পাইপলাইন দেওয়ার জন্য ২০১৮ সাল থেকে ‘স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে ওয়াসা। এই প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে পাঁচটি ‘স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। চলমান এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩০ সালে। তবে ওয়াসা এই কাজ শেষ করতে চায় ২০২৭ সালের মধ্যে।

এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসা যত দিন পর্যন্ত পুরো নগরকে পাইপলাইন স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের আওতায় না আনছে, তত দিন পর্যন্ত যার যার ভবনে সেপটিক ট্যাংক থাকতে হবে। যেখানে এই নেটওয়ার্ক আছে সেখানে এটা ওয়াসাই দেখবে। তবে এখনো যেখানে হয়নি, সেখানে অবশ্যই মালিককে ব্যবস্থা করতে হবে, কোনোভাবেই পয়োনিষ্কাশন লাইন ড্রেনে দেওয়া যাবে না।’