kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

প্রতারণা ঠেকাতে বিয়ের নিবন্ধন ডিজিটাইজ করা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলেও এর তথ্য ডিজিটাইজ না করার কারণে প্রায়ই ঘটছে বিভিন্ন প্রতারণার ঘটনা। এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাইজ না থাকার কারণে কোনো ব্যক্তি যদি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে আগের বিয়ের কথা গোপন করে আবার বিয়ে করেন তাহলে নতুন এলাকার রেজিস্ট্রার বা কাজীর পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। এ ছাড়া ভুয়া কাবিননামা তৈরির মাধ্যমে প্রতারণার করার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। এমন অবস্থায় সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সংগঠন ও ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তথ্য ডিজিটাইজ করে বহুমুখী প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব।

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করা যায়, সম্প্রতি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের পর তাঁর স্ত্রী তামিমার আগের স্বামীর সঙ্গে তালাক হয়েছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তাঁদের বিয়ের কাগজপত্রও যথেষ্ট রহস্যের জন্ম দিয়েছে। গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে নারীসহ আটক হওয়া হেফাজত নেতা মামুনুল হক ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেন। বিয়ের কাবিননামার সনাতন পদ্ধতির কারণে এখানেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিয়ে নিয়েও ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। গত মাসে রোমানা ইসলাম স্বর্ণা নামের এক অভিনেত্রী প্রতারণার অভিযোগে আটকের পর জানা যায়, তিনি তথ্য গোপন করে ২৮টি বিয়ে করেছেন। গত আগস্টে ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসফেরত এক ব্যক্তিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া নিয়ে দুই স্ত্রীর বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে রাজধানীর তেজগাঁও থানা পুলিশ জাকির হোসেন ব্যাপারী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি তথ্য গোপন করে ১৪ বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতারণা করে ২৮৬টি বিয়ে করেন।

রাজধানীর রামপুরার এক ভুক্তভোগী নারী (৩৫) বলেন, ‘আমার স্বামী-সন্তান আছে। তার পরও এক নিকটাত্মীয় আমার সঙ্গে তার বিয়ের ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে নানা ধরনের ব্ল্যাকমেইল করছে। এ ঘটনা এখন মামলায় রূপ নিয়েছে।’

সাতক্ষীরা সদরের বিয়ের কাজী সামসুর রহমান (৫১) বলেন, ‘আমাদের কাছে যে ধরনের তথ্য দেওয়া হয় (জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয়পত্র) এ থেকে পাত্র-পাত্রীর আগের বৈবাহিক অবস্থা জানা সম্ভব হয় না।