kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

তিনি জানতে পারলেন ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজীর চর ইউনিয়নের চর কমিশনার গ্রামের মন্নান ফরাজির স্ত্রী শানু বেগম। বিধবা শানু বেগমের বয়স এখন ৬৫ বছর। হঠাৎই তাঁর বিধবা ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে তিনি যান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। সেখানে সমাধান না পেয়ে তিনি যান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সেখানে তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি জানতে পারেন, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে! এতে এক বছর ধরে বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেন, নির্বাচন কমিশনের ১২ নম্বর ফরম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ওই ফরমের মাধ্যমে শানু বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কেউ শত্রুতা করে ভুল তথ্য দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। নতুন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য শানু বেগকে একটি আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হলেই শানু বেগম আবার বিধবা ভাতা পাবেন।

শানু বেগম জানান, প্রতিবেশীরা বলছিল সরকার কোনো কারণে হয়তো ভাতা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তারা আরো বলছিল, ‘আজ পাননি, কাল পাবেন।’ এই আশায় শানু প্রায় এক বছর কাটিয়েছেন। তবে কিছুদিন আগে প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে তাঁদের বিধবা ভাতা নিয়মিত পাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। শানু বলেন, ‘শুধু আমিই ভাতা পাচ্ছি না, এটি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাই। সেখান থেকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। পরে সেসব জায়গায় ভোটার কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গিয়ে জানতে পারি, ২০১৯ সালে আমার মৃত্যু হয়েছে! এমনটাই রয়েছে হালনাগাদ ভোটার তথ্যে।’



সাতদিনের সেরা