kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

‘লকডাউন’ ভয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের চাহিদায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কেনাকাটা, বাইরে খাবার খাওয়ার ব্যাপারে মানুষ এখন অনেক সংযত। করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আবারও এলোমেলো এ খাতের ব্যবসা। সামনে আরেকটি কঠোর লকডাউনের পথে দেশ। এমন সময় এ খাতের ব্যবসায়ীরা তাঁদের টিকে থাকা নিয়ে সন্দিহান। অনলাইনে কিছু অর্ডার পেলেও মানুষ রেস্তোরাঁয় খেতে আসছে কম। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁ ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

রাজধানীর পল্টন মোড়ে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ আছে। প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁয়ই বাংলা খাবার পাওয়া যায়। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা হওয়ায় করোনার আগে এসব রেস্তোরাঁয় ভিড় লেগেই থাকত। এবার সরকার ঘোষিত আংশিক লকডাউনে কার্যত সব কিছু চালু রয়েছে। তবে এসব রেস্তোরাঁর প্রায় সব আসন ফাঁকা। দু-একজন বসে খাবার খাচ্ছে। বৈশাখী, ক্যাফে ঝিল—সবটাতে একই অবস্থা। রাস্তায় মানুষ দেখলেই ডাকছেন, ‘মামা আসেন, বসেন। কী খাবেন? মোরগ-পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত-মাছ সব আছে।’ খেতে নয়, প্রতিবেদন করতে এসেছি জানালে রফিক নামের কর্মীটি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বলেন, ‘এ অবস্থা চলতে থাকলে কাজ থাকবে কি না সন্দেহ। সরকার সামনে আবার লকডাউন দেবে। পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি মামা।’

বসুন্ধরা সিটির পাশে কারওয়ান বাজার এলাকায় আছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। প্রতিবার পহেলা বৈশাখ, রোজা ও ঈদকে কেন্দ্র করে এসব রেস্টুরেন্টে সিট খালি পাওয়া মুশকিল হতো। অন্য রেস্টুরেন্টগুলোর মতোই স্টার কাবাব এখানে ভালো চলে। এবার ঠিক উল্টোচিত্র। কুটুমবাড়ি নামের রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই কর্মীরা নড়েচড়ে বসেন। ব্যবসার অবস্থা জিজ্ঞেস করতেই একজন বলেন, ‘ব্যবসা ভালো থাকলে কি আর বসে থাকি?’

ধানমণ্ডি এলাকায় রয়েছে আরেকটি স্টার কাবাব। এর কাবাব ও কাচ্চি বিখ্যাত। ধানমণ্ডি এলাকার মানুষ ছাড়াও আশপাশের অনেকেই এখানে এসে খান। বন্ধের দিন থাকলে তো কথাই নেই। কিন্তু করোনা সব এলোমেলো করে দিয়েছে। বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানালেন বিক্রয়কর্মী ফয়সাল। তিনি বলেন, এবার করোনা আক্রান্তের হার ও মৃত্যুসংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়ে গেছে। তাই মানুষ কম আসছে। তবে আসছে।

স্টার কাবাবের একটু সামনেই ডমিনোজ পিত্জা। বছরখানেক আগেও এখানে মানুষ লাইন দিয়ে পিত্জা খেতে ঢুকেছে। শনিবার একটু ঢুঁ মেরে দেখা গেল কর্মীরা গ্লাভস, মাস্ক পরা থাকলেও কাস্টমার খুবই কম। তবে একজন কর্মী জানালেন, অনলাইনে তাঁরা অর্ডার পাচ্ছেন। ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজের উল্টোদিকে বেশ কিছু ফাস্ট ফুড ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখানকার খাবারের প্রধান ক্রেতাই হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে অনেক দিন ধরেই স্কুল-কলেজ বন্ধ।

বেকায়দায় থাকা এসব ফাস্ট ফুড এবং রেস্টুরেন্ট মালিকদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম ‘লকডাউন’।