kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডব

‘খোলস’ পাল্টে বাঁচার চেষ্টায় হামলাকারীরা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘খোলস’ পাল্টে বাঁচার চেষ্টায় হামলাকারীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকানি (হকার) এখন অনেকটাই কম। খালি চোখে মনে হতে পারে, লকডাউনের আদলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকায় শহরে হকারের সংখ্যা কমে গেছে। প্রশাসনের ভয়ে কিংবা কম বিক্রির চিন্তা থেকে হয়তো তাঁরা দোকান নিয়ে বসতে চাইছেন না। তবে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। হেফাজতের তাণ্ডবের সময়, বিশেষ করে ২৮ মার্চ হরতালের দিন তাণ্ডবে অনেক হকার অংশ নেন। আর ওই হকাররা এখন ‘খোলস’ পাল্টিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টায় রত।

একাধিক সূত্র বলছে, ওই হকাররা এখন বিভিন্ন তাবলিগের দলে যোগ দিয়েছেন। পুলিশের কাছেও এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান হতে পারে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৮ মার্চ পুলিশ লাইনসে হামলাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলায় হেফাজতে ইসলাম নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বহিরাগতরা অংশ নেয়। তাদের অনেকেই প্যান্ট-শার্ট পরে অংশ নেয় হামলায়। ওই হামলাকারীরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পুলিশও ওই সূত্র ধরে কাজ শুরু করে। হামলায় সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও অংশ নেয় বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। হামলাকারীদের বেশির ভাগই ওই সব গ্রামের লোকজন, যাঁরা মূলত হকার হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কিছু অটোরিকশার চালকও রয়েছেন। মূলত হামলার পাশাপাশি লুটপাটে অংশ নেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাণ্ডবের ঘটনায় সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পর ওই হামলাকারীরা কিছুটা ভড়কে যান। এ অবস্থায় তাঁরা গা-ঢাকা দিতে শুরু করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁদের অনেকে এখন তাবলিগ জামাতে অংশ নিতে শুরু করেছেন।

এদিকে হেফাজতের তাণ্ডবের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ তাদের ‘শক্তি’ বাড়াতে শুরু করেছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে পুলিশ। এরই মধ্যে থানাসহ জেলার ২৭টি পুলিশের স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। আনা হয়েছে ‘আধুনিক’ অস্ত্র ও গুলি। বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের জনবল। 

ছিনিয়ে নেওয়া গুলি উদ্ধার

এদিকে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় লুটে নেওয়া ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কেন্দুবাড়ির মৃত ছামির আলীর ছেলে আরব আলী ও সুহিলপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার মৃত রমিজ মিয়ার ছেলে মো. মনির মিয়া।

অতিরিক্ত সচিবের পরিদর্শন

হেফাজতের তাণ্ডবের সময় ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাসহ সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) দীপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। শনিবার দুপুরে প্রতিনিধিদলটি পুড়িয়ে দেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব ভবন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়সহ তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে।



সাতদিনের সেরা