kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ে গত পাঁচ বছরে ২১ হাজার হেক্টর জমিতে কমেছে আবাদ

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ে গম কাটছেন কৃষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন কমছে গমের আবাদ। বাজারে গমের ন্যায্য মূল্য না থাকা ও সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি করতে না পারায় গম আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। এর বদলে ভুট্টা, আলুসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদে ঝুঁকছেন তাঁরা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁওয়ে ২০১৬ সালে প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়। পরের বছর এক হাজার হেক্টর কমে আবাদ হয় ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৮ সালে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ নেমে আসে ৬০ হাজার ১৭১ হেক্টরে। ২০২০ সালে ৫৮ হাজার ও চলতি বছর মাত্র ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে কমেছে গমের আবাদ।

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও এক সময়ে দেশের সর্বাধিক গম উৎপাদনের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু চাষাবাদে বারবার লোকসান হওয়ায় গম আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন জেলার কৃষকরা। লোকসান ঠেকাতে ও কৃষকদের গম আবাদে উদ্বুদ্ধ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারিভাবে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে প্রতি কেজি ২৮ টাকা দর নির্ধারণ করে গম সংগ্রহ শুরু করে খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রকৃত কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত গম সরকারের খাদ্যগুদামে বিক্রি করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সদর উপজেলা গড়েয়া চণ্ডিপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ক্ষেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে রোপণ, সার-কীটনাশক প্রদান, সেচ ও কাটা-মাড়াই শেষে গম বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠছে না তাঁদের। এ ছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রি করতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হলেও প্রকৃত কৃষকরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আকচা পল্টন এলাকার কৃষক দত্তেস্বর রায় জানান, ১৫ বছর ধরে গম আবাদ করে এলেও সরকারি খাদ্যগুদামে কখনোই গম বিক্রি করতে পারেননি তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, জেলায় আলু ও ভুট্টার বাজার মূল্য বেশি থাকায় এ বছর গমের আবাদ অনেকটা কমেছে। চলতি বছর সরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু গমের আবাদ হয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে।

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, চলতি বছর ঠাকুরগাঁওয়ে সরকার নির্ধারিত ২৮ টাকা কেজি দরে ১৬ হাজার টন গম কিনবে সরকার। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করা হবে। সংগ্রহ অভিযানে মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে প্রকৃত কৃষকদের ঠকাতে না পারে—সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।



সাতদিনের সেরা