kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

মৌলভীবাজারে করোনা

মন্ত্রীর সুপারিশেও বছর পার, নেই পরীক্ষাগার

সংক্রমণের হার ফেব্রুয়ারিতে ৫ শতাংশ হলেও মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ২২.২ শতাংশ। এপ্রিলের প্রথম আট দিনে সংক্রমণ কিছুটা কমে ১৬ শতাংশ হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মন্ত্রীর সুপারিশেও বছর পার, নেই পরীক্ষাগার

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে উচ্চ সংক্রমণে যে জেলাগুলো রয়েছে তার মধ্যে মৌলভীবাজার একটি। প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলায় সংক্রমণের হার ফেব্রুয়ারিতে ৫ শতাংশ হলেও মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ২২.২ শতাংশ। এপ্রিলের প্রথম আট দিনে সংক্রমণ কিছুটা কমে ১৬ শতাংশ হয়েছে। অথচ জেলায় নেই করোনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব।

মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাবরে ডিও লেটার দিয়েছিলেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ডিও লেটার দেওয়ার পর প্রায় এক বছর পার হতে চলছে এখনো স্থাপিত হয়নি পিসিআর ল্যাব।

এরই মধ্যে এ জেলায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত দুজন মারা গেছে। আগে ২৪ জনের মৃত্যুসহ জেলায় মোট মৃত্যু ২৬ জনের। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জেলায় বেড়েছে করোনা পরীক্ষার হার। কিন্তু এই পরীক্ষার ল্যাব না থাকায় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও সিলেটে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে ফলাফল আসতে পাঁচ থেকে সাত দিন লেগে যায়। আগে এমনও হয়েছে যে ১৪ দিন পর ফলাফল এসেছে। দূরের ল্যাবে নমুনা পাঠানোর কারণে এবং জেলায় ল্যাব না থাকায় বিভিন্ন সময় নষ্ট হয়েছে ৬২৫টি নমুনা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সূত্রে জানা যায়, করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬২৮টি নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও সিলেটে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পজিটিভ এসেছে দুই হাজার ১১০টি নমুনা এবং নেগেটিভ এসেছে ১০ হাজার ৬৬৫টি নমুনা। ১৩০ জন ফলোআপ টেস্টেও পজিটিভ এসেছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর মার্চে মৌলভীবাজার জেলার ৪১৪ জনের পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৯২ জনের। শতকরা হিসাবে আক্রান্ত শনাক্তের হার ২২.২ ভাগ। ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪৫ জনের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া গেছে ৫৫ জনের। শতকরা হিসাবে ১৬ ভাগ।

গত ৭ এপ্রিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মৌলভীবাজারের দুজন করোনা রোগী মারা গেছেন। তাঁরা হচ্ছেন পৌর এলাকার দ্বারক ও পশ্চিম ধরকাপন এলাকার নিজামুল ইসলাম ডালুন ও মাসুক মিয়া।

মৌলভীবাজার জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য দুটি হাসপাতালে ৮০টি শয্যা (মৌলভীবাজারে ৫০টি ও রাজনগরে ৩০টি) ও পাঁচটি আইসিইউ তৈরি রাখা হলেও আক্রান্তরা এখানে চিকিৎসায় খুব একটা আস্থা রাখতে পারে না। হাসপাতালে পাঁচ শয্যার আইসিইউ কয়েক ব্যক্তির আর্থিক অনুদানে নির্মাণ করা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি আছে তিনজন। আক্রান্ত অন্যদের মধ্যে বেশির ভাগই আছে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে, যাদের জটিলতা বেশি তারা সিলেট কিংবা ঢাকার প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে তারা মারা যান।’ তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ‘জেলায় চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা শনাক্তের হার কমে এলেও সম্প্রতি আবারও বাড়ছে। সংক্রমণ রোধে সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেও অনেকেই তা মানছে না। এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।’



সাতদিনের সেরা