kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

সব চাপ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

ময়মনসিংহ নগরীতে নেই জেলা ও সদর উপজেলা হাসপাতাল

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহ নগরীতে স্টেশন রোড এলাকায় রিকশা থেকে পড়ে পায়ে সামান্য ব্যথা পান ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম। স্বজনরা তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি কোনোভাবেই সেখানে যেতে রাজি হননি। সকালে দুর্ঘটনা ঘটলেও তিনি কষ্ট সহ্য করে সন্ধ্যায় প্রাইভেট চিকিৎসক দেখালেন। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট থাকায় তিনি ভয়ে সেখানে যাননি। এমন ভয় শুধু শহীদুল ইসলামের নয়, আরো অনেকের মধ্যেই এখন এমন ভয়। আবার উল্টো চিত্রও আছে। ভয় উপেক্ষা করেও অনেকে চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসছে। তাদের সংখ্যাও একেবারে কম না, যে জন্য হাসপাতালের আউটডোরে গাদাগাদি আর ভিড়ের দৃশ্য এই হাসপাতালে বর্তমান করোনাকালেও নিয়মিত ঘটনা।

এসব সমস্যার মূল কারণ সম্পর্কে চিন্তাশীল চিকিৎসকদের খুব সহজ উত্তর। তাঁদের মতে, ছোট-বড় যেকোনো রোগে ময়মনসিংহ নগরী ও সদর উপজেলার বাসিন্দাদের একমাত্র চিকিৎসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। নগরীতে একটি জেলা হাসপাতাল ও সদর উপজেলা হাসপাতাল থাকলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ তুলনামূলক কম হতো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার প্রধান আশ্রয়স্থল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে রোগীদের এখানে পাঠানো হয়। এসব রোগী এই হাসপাতালে রেফার্ড হওয়ার আগে নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। এরপর পরিস্থিতি বুঝে রোগীদের পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে ময়মনসিংহ নগরী ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় চিত্রটা ভিন্ন। এ এলাকার রোগীরা সরাসরি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে যায়। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটির বাইরে অন্য কোনোভাবে সরকারি চিকিৎসাসেবার সুযোগ আর নেই। এ জন্য কেউ শরীরে লোহার খোঁচা খেলেও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলে আসে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন তিন হাজার থেকে চার হাজার রোগী আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে সুযোগ পায়। আবার রোগীর প্রচণ্ড চাপে চিকিৎসকরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালের ইনডোরেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে। শিশু ওয়ার্ড ও সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীর ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। 

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী বলেন, ময়মনসিংহে জেলা হাসপাতাল ও সদর উপজেলা হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি। এ ছাড়া বিশেষায়িত হাসপাতালও এই বিভাগীয় নগরীতে নির্মাণ জরুরি।



সাতদিনের সেরা