kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

বিপণিবিতান খুললেও স্বাস্থ্যবিধিতে ‘তালা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপণিবিতান খুললেও স্বাস্থ্যবিধিতে ‘তালা’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে সরকারি সিদ্ধান্তে টানা চার দিন বন্ধ ছিল রাজধানীসহ সারা দেশের বিপণিবিতানগুলো। তবে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের পর নিষেধাজ্ঞার পঞ্চম দিনে গতকাল শুক্রবার সেগুলো খুলেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতেও রাজধানীর মার্কেট-শপিং মলগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছুসংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও ছিল না সামাজিক দূরত্বের বালাই। ফুটপাতের অত্যধিক ভিড় দেখে করোনা পরিস্থিতি বোঝারও উপায় ছিল না। সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সবার মধ্যে অবহেলাই পরিলক্ষিত হয়।

গতকাল রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, চকবাজার এলাকার বিপণিবিতান-মার্কেটগুলোর চিত্র ছিল এমন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় সকালের দিকে ক্রেতা সমাগম কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে।

নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নাজরানা বলেন, ‘কয়েক দিন পর রোজা শুরু হবে, তাই এই সপ্তাহেই কিছু প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিতে এসেছি। রোজার মধ্যে মার্কেটে আসার সময় বের করা ঝামেলা হয়ে যায়।’ ভিড় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন বন্ধ থাকায় হয়তো কিছু মানুষ বেশি এসেছে।’ আমিনুল ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘চাইলেও জনসমাগম কমানোর সুযোগ নাই। তবে বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরেছে, আমিও মাস্ক পরে এসেছি। সামনের সপ্তাহ থেকে লকডাউনের রূপ কেমন হবে, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। তাই অনেকেই এই সপ্তাহে মার্কেটমুখী হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

তবে বেচাবিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিক্রেতারা। তাঁরা বলছেন, এই সময়টা পাইকারি বিক্রির সময়। এই সময়ে টানা চার দিন দোকান বন্ধ থাকায় তাঁদের বেশ ক্ষতি হয়েছে। পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে সামনে রেখে খুচরা বিক্রিও জমজমাট হওয়ার কথা ছিল। বন্ধে তা ভেস্তে গেছে।

গাউছিয়া মার্কেটের দোকানি জামাল বলেন, ‘আজ (গতকাল) আশানুরূপ কাস্টমার আসে নাই। সকাল থেকে প্রায় ফাঁকাই বসেছিলাম। মানুষের মধ্যে লকডাউনের কিছুটা আতঙ্ক রয়ে গেছে।’ তবে দুপুরের পর থেকে কাস্টমার বাড়ে বলে জানান তিনি।

তবে অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বহুতল শপিং মলের অবস্থা ভালো ছিল। বসুন্ধরা শপিং মলের প্রবেশমুখে শরীরের তাপমাত্র মাপা হয়। পরে জীবাণুনাশক টানেলের ভেতর দিয়ে যেতে হয় ক্রেতাদের। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মলের ভেতরেও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়।



সাতদিনের সেরা