kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ

পায়রা সেতু খুলবে জুন-জুলাইয়ে!

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পায়রা সেতু খুলবে জুন-জুলাইয়ে!

খরস্রোতা পায়রার দুই তীর শাসন করে নির্মিত হচ্ছে পায়রা সেতু। এই সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্মাণকাজ শেষ হলে বিভাগীয় শহর বরিশাল আর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে জুড়বে এই সেতু। এর ফলে বরিশালসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কুয়াকাটা।

ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা যেতে এখনো দুটি নদী ফেরি দিয়ে পার হতে হয়। একটি পদ্মা নদী, অন্যটি পায়রা নদী। এই নদী দুটি ফেরি দিয়ে পার হতে দীর্ঘ সময় লাগায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পদ্মা সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। আর পায়রা সেতুটি চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।

করোনা মহামারির কারণে পায়রা সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, এখন আর তা নেই। এরই মধ্যে পায়রা সেতুর অবকাঠামো নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। আনুষঙ্গিক কাজও এগিয়ে চলেছে সমানতালে। সেতুটির মূল কাঠামো এরই মধ্যে দৃশ্যমান। দুই পারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গেছে এই কাঠামো। সেতুটি চালু হলে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে আর ফেরি ব্যবহার করতে হবে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর মধ্যে ৬৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের চারটি স্প্যানের কাজ প্রায় শেষ। দুই পারের সংযোগ সড়ক, টোল প্লাজা, ওজন নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন এবং নদীশাসনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লংজিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন সেতুটি নির্মাণের কাজ করছে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

পায়রা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল খালেক বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবু এরই মধ্যে মূল সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুর উত্তরে বরিশালের বাকেরগঞ্জের লেবুখালী এবং দক্ষিণে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা। আশা করছি, আগামী জুন-জুলাই মাসে এই সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করে গত ২১ মার্চ একটি গেজেট প্রকাশ করেছে। ওই গেজেটে পায়রা সেতুতে ট্রেইলারের টোল ৯৪০ টাকা, হেভি ট্রাক ৭৫০ টাকা, মিডিয়াম ট্রাক ৩৭৫ টাকা, বড় বাস ৩৪০ টাকা, মিনিট্রাক ২৮০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যান ২২৫ টাকা, মিনিবাস-কোস্টার ১৯০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৫০ টাকা, ফোর হুইল চালিত যানবাহন ১৫০ টাকা, সিডান কার ৯৫ টাকা, তিন-চার চাকার মোটরাইজড যান ৪০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকা, রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, ঠেলাগাড়ি ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাঈদুর রহমান রিন্টু বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষিণাঞ্চল পিছিয়ে পড়ার পেছনে অবকাঠামোর দুর্বলতা দায়ী। পদ্মা সেতু ও পায়রা সেতু চালু হলে এই দুর্বলতা ঘুচে যাবে।



সাতদিনের সেরা