kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানার নিরাপত্তায় এলএমজি

হেফাজতকে ক্ষমা চাইতে বলল ছাত্রলীগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটের পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলার সব থানা ও ফাঁড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এসব স্থাপনার সামনে বসানো হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি (মেশিনগান বা এলএমজি পোস্ট)।

এদিকে হেফাজত ইসলামের নেতাদের প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলেছে জেলা ছাত্রলীগ। তা না হলে হেফাজতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এরই মধ্যে ২৭টি স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি বা এলএমজি পোস্ট বসানো হয়েছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইস উদ্দিন। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের স্থাপনাগুলোর নিয়মিত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে অত্যাধুনিক ও ভারী অস্ত্র দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পোস্ট বসানো হয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার সামনে এলএমজি পোস্ট দেখা যায়।

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন : গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সম্প্রতি জেলায় চালানো তাণ্ডবের জন্য হেফাজত ইসলামকে দায়ী করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন শোভন বলেন, ‘হেফাজত নেতারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁদের কেউ তাণ্ডবে জড়িত নয়, তাঁদের এ বক্তব্য মিথ্যাচার ও অপরাজনীতি।’ এ সময় তিনি ২৭ মার্চ মিছিলে থাকা ছাত্রলীগের কেউ মাদরাসা কিংবা এর আশপাশেও যায়নি বলে দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ মিছিল করার এক পর্যায়ে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার মাইক থেকে ‘হাইয়া আলাল জিহাদ’ অর্থাৎ জিহাদের জন্য আসার আহ্বান জানিয়ে এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কতল করার আহ্বান জানানো হয়। এ আহ্বানে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা মিলে টিএ রোডে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামের ডাকা কর্মসূচিকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিন (২৬-২৮ মার্চ) তাণ্ডব চালানো হয়। এর মধ্যে ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিনে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয় ও সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন পুড়িয়ে দেওয়া হয়।