kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

চার র‌্যাব সদস্য ও এক নারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর হাতিরঝিল থানা পুলিশ গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁদের সঙ্গে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, অপহরণকারীদের এই চক্রে মোট সাতজন ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত চার র‌্যাব সদস্যের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনী ও একজন বিমানবাহিনীর সদস্য। পলাতকদের মধ্যে একজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য। অন্যজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনীর সদস্য নন। তিনি সাধারণ মানুষ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ল্যান্স করপোরাল দুলাল মৃধা, সৈনিক রোকন মিয়া, ল্যান্স করপোরাল মো. রনি ও সৈনিক সাগর।  একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা রানু বেগমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালত তাঁকে দুদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েই এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তদন্তে চার র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের পক্ষে কোনো ধরনের সহানুভূতি দেখানো হবে না।

হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী রাইয়ানা হোসেন নামের এক তরুণী। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বড় ভাই তামজিদ হোসেন (২৭) তাঁদের মীরবাগের বাসা থেকে গত ৮ এপ্রিল সকাল ৯টায় উত্তরায় যাওয়ার কথা বলে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তামজিদ র‌্যাবের হেফাজতে আছেন। থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানালে তাঁর ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এ কথা বলে ফোন কেটে দেন ওই ব্যক্তি। এরপর থেকে অনেকবার তিনি ওই নম্বরে ফোন করলেও তা রিসিভ করা হয়নি। আনুমানিক দুপুর দেড়টায় ফোন রিসিভ করে ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জানান, তামজিদকে র‌্যাবের সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তাঁর নামে অস্ত্র ও মাদক মামলা হবে।

এজাহারে রাইয়ানা বলেন, ‘আমার ভাইকে র‌্যাবের কোন অফিসে কোন সিনিয়র অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছেন জানতে চাইলে ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বলেন, এই মুহূর্তে আপনার ভাই কোন অফিসে আছে তা বলা যাবে না। তাঁকে ক্রসফায়ারও দেওয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান, তাহলে দুই কোটি টাকা রেডি করেন। এর কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী সেই ব্যক্তি মোবাইল ফোনে আমার ভাইকে তাঁদের সহযোগীদের দ্বারা মারধরের শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইল ফোন দিলে আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে বেদম মারধর করছে। আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানান।’



সাতদিনের সেরা