kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

সালথায় সহিংসতা

পাঁচ মামলায় আসামি ১৭ হাজার, এলাকা পুরুষশূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ মামলায় আসামি ১৭ হাজার, এলাকা পুরুষশূন্য

ফরিদপুরের সালথায় করোনা বিধি-নিষেধ না মানাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৭ হাজার জনকে। গ্রেপ্তার হয়েছে ৫১ জন। পুলিশি অভিযানের কারণে উপজেলার আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গতকাল সকালে ওই সব এলাকার বাড়িঘরগুলোতে নারী আর শিশু ছাড়া কোনো সদস্য দেখতে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে উপজেলা সদরে অবস্থিত রামকান্তপুর ইউনিয়ন, সোনাপুর ইউনিয়ন, গট্রি ও ভাওয়াল ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামে পুরুষের দেখা মেলেনি।

সূত্র জানায়, সালথা উপজেলায় ১৬৫টি কওমি মাদরাসা রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার আমির ও সেক্রেটারির বাড়ি এই সালথাতে। ওই রাতে হেফাজতে ইসলামের আমির ও বাহিরদিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আকরাম আলীকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়। এখন এসব এলাকার আলেম ও মাদরাসা ছাত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে বাহিরদিয়া মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক শতবর্ষী মাওলানা সুলাইমান নদভীও এখন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।

রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৌলডুবি গ্রামের মো. ইউনুস শেখের স্ত্রী মালেকা বেগম (৫২) বলেন, ‘আমার স্বামী গ্রামে ক্ষেতে কাজ করেন। তিনিও বাড়িতে থাকার সাহস পান না। যুবক ছেলেকে আগেই বাইরে আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামের এক কলেজছাত্র বলেন, ঘটনার পর তিনি ফরিদপুর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হলেও অভিভাবকরা তাঁকে গ্রামে রাখার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।

ফুকরা বাজার এলাকার করিমন বেগম জানান, সব সময় ভয়ে রয়েছি। পুলিশ দেখতে দেখতে সারা দিন কেটে যাচ্ছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। সবাই পালিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘট্রি এলাকার মনির নামে একজন জানান, বালিয়া গট্রি এলাকা ও উপজেলাকেন্দ্রিক এলাকার বাড়িগুলোতে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। ঘটনার পর থেকে ওই সব এলাকার লোকজন পলাতক অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে তিনি আশা করেন কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির স্বীকার না হন।

গত ৫ এপ্রিলের  ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে পাঁচটি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৬১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৬ হাজার ৮০০ জনকে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত আটক করা হয়েছে মোট ৫১ জনকে। পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে ২৬ জন।

গত বুধবার সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি দেখিয়ে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন।

নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মাদ হাসিব সরকারের গাড়িচালক মো. হাশমত আলী। এই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ এবং তিন হাজার থেকে চার হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস। এ মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিন হাজার থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে তিন হাজার থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘সহিংসতার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আসামিদের ধরতে পুলিশ দিন-রাত জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। কারা কারা এর পেছনে কাজ করেছে সেসব আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এজাহারে সেসব উল্লেখ রয়েছে। আরো বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।’



সাতদিনের সেরা