kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘুরে বাম গণতান্ত্রিক জোট

হেফাজতের তাণ্ডব একাত্তরের বর্বরতা মনে করিয়ে দিচ্ছে

‘হেফাজতের তাণ্ডবের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল, সেটাই বড় প্রশ্ন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলাম সম্প্রতি যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে বাম নেতারা বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডবের জন্য প্রধানত হেফাজতে ইসলামই দায়ী। কিন্তু হেফাজতের তাণ্ডবের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল, সেটাই বড় প্রশ্ন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দী, ইউসিবিএলের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আব্দুল আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, হরতাল ও বিক্ষোভ চলাকালে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, মন্দির ও উপাসনালয় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত ও উসকানিদাতাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য ডিসি, এসপিসহ সংশ্লিষ্টদের অপসারণ ও বিচার করতে হবে। তদন্ত করে তাদের নিষ্ক্রিয় থাকার কারণ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।

আরো বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন, মন্দির, সাংস্কৃতিক ক্লাবসহ ক্ষতিগ্রস্ত বেসরকারি স্থাপনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ওই সব দাবি আদায় ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি প্রতিহত করতে সব বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

উল্লেখ্য, গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের ডাকা বিক্ষোভ ও হরতাল চলাকালে সংঘটিত প্রকৃত ঘটনা জানতে বাম জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল গত ৪ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিদর্শন করে।



সাতদিনের সেরা