kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

বার্ন ইনস্টিটিউট কর্মীর আত্মহত্যা

দেনার চাপ আর মাদকের কাছে পরাজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রায় দেড় বছরের মতো ওয়ার্ড বয়ের কাজ করেছেন আজিজুল ইসলাম মিলন (২৯)। গত ২০ মার্চ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়া, দেনাদারের চাপ ও মাদকাসক্তি—এসব আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ বলে তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন ভাই-বোনের মধ্যে মিলন ছিলেন দ্বিতীয়। আড়াই বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর কোমর থেকে দুই পা অবশ হয়ে যায়। তিন বছর বয়সে মা মারা যান। এরপর ১০ বছর বয়সে হারান বাবাকে। সবাইকে হারিয়ে ফুফুর বাসায় থেকে বড় হন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বার্ন ইনস্টিটিউটে ওয়ার্ড বয় পদে চাকরিতে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি অভ্যর্থনাকেন্দ্রে তথ্য প্রদানকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

জানা যায়, গত বছরের জুনে নিমতলী মাছবাজারের কাছে একটি মেসে ওঠেন মিলন। এক পর্যায়ে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এদিকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে ঠিকমতো বেতন না হওয়ায় বেশ কিছু টাকা ধারদেনা করেন। একটি ব্যাংক থেকেও ৭০ হাজার টাকা ক্ষুদ্রঋণ নেন তিনি। পরে তা আর শোধ করা হয়নি। আবারও দু-আড়াই মাস বেতন বন্ধ, পাওনাদারদের চাপ ও ব্যাংকের টাকা দিতে না পেরে তিনি সব সময় মনমরা হয়ে থাকতেন।

সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে আগের তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। এর পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো বেতন-ভাতা পাননি কর্মচারীরা। কর্মীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বলেছিল চাকরি নিয়মিত করবে। কিন্তু তা করা হয়নি। উল্টো আগে নিয়মিত বেতন হতো, এখন তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সবার মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা কাজ করে। মিলনও টাকার অভাবে এবং দেনাদারদের চাপেই এমন পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাপ্তরিক কিছু সমস্যার কারণে বেতন হতে দেরি হয়। তবে দেরি হলেও কর্মীদের বেতন হচ্ছে। শেষ তিন মাসের বেতনও পাস হয়ে গেছে।

হাসপাতালের শ্রমিক নেতা আবুল কালাম বলেন, ‘ছেলেটা (মিলন) কেন এভাবে মারা গেল বুঝতে পারছি না। সবার মধ্যে একটা খারাপ লাগা তো আছেই।’

হাসপাতালের অ্যাকাউন্টস অফিসার নাসির উদ্দিন কিরণ বলেন, ‘৩৫৩ জন কর্মী আউটসোর্সিংয়ে কাজ করেন, যেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে ওয়ার্ড বয় পর্যন্ত রয়েছেন। তাঁদের সবার বেতন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে পাস হয়ে আসতে সময় লাগে। মিলন ছেলেটা কেন এমন করল জানি না। আত্মহত্যার কিছুদিন আগেও বেতন দেওয়া হয়েছিল।’



সাতদিনের সেরা