kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

মিরকাদিমে বিস্ফোরণে দগ্ধ ১৩

মেয়রের স্ত্রীসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ১৩ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের মধ্যে মেয়র আব্দুস সালামের স্ত্রী কানন বালার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আর যুবলীগকর্মী মনির হোসেনের শরীরের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুজনকে ভর্তি করতে হয়েছে। তাঁদের কারো অবস্থাই ভালো নয়। দগ্ধ বাকিদের মধ্যে পাঁচজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।’

এদিকে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট জানিয়েছে, গ্যাস লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহত প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা দাবি করেন, এটি শক্তিশালী পেট্রলবোমা ছিল। অন্যদিকে সিআইডি, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসও ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বোমার কোনো আলামত পায়নি।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকায় মেয়রের বাসভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণে ১৩ জন দগ্ধ হন। আহতরা হলেন মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা, আওলাদ হোসেন, কাউন্সিলর দ্বীন ইসলাম, সোহেল, মেয়র আব্দুস সালামের দ্বিতীয় স্ত্রী কানন বালা, যুবলীগকর্মী তাইজুল, মোশারফ, মনির হোসেন, শ্যামল দাশ, পান্না, কালু ও মহিউদ্দিন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে মেয়রের বাসায় বসেছিলেন পৌর কাউন্সিলরসহ অন্যরা। হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। কক্ষের আসবাব ও জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেয়রের স্ত্রী ও দুই প্যানেল মেয়রসহ ১৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। সে সময় মেয়রের স্ত্রী রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গিয়েছিলেন বলে জানায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম বলেন, রাতেই বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা জানায়, কোনো কারণে গ্যাস লিকেজ থাকায় পুরো বাসা গ্যাস চেম্বার হয়ে ছিল এবং স্পার্কের ফলে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।

মেয়র আব্দুস সালামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাসায় গ্যাস লিকেজ হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটার কোনো সুযোগ নেই। এটি কেউ পরিকল্পিতভাবে করেছে।

অগ্নিকাণ্ডে আহত প্যানেল মেয়র রহিম বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমিশনারের সঙ্গে মিটিং করছিলাম। হঠাৎই বিকট শব্দ হয়ে আগুন ধরে যায়। এটি শক্তিশালী পেট্রলবোমা হতে পারে। আমাদের শত্রুরা এমনটা করতে পারে। এখন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে চালিয়ে দিতে চায়।’



সাতদিনের সেরা