kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

কার্টনের সূত্রে শনাক্ত ‘খুনি’

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর ১০টা সকালের মতো আড়মোড়া ভেঙে জাগতে শুরু করেছে রাজধানী। মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকার কর্মজীবী মানুষও পথে নামতে শুরু করেছে। তবে একটা খবরে তাদের অনেকে কর্মস্থলের দিকে না গিয়ে ভিড় জমায় ঢাকা ডেন্টাল কলেজের জরুরি বিভাগের রাস্তায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটা কার্টনে পাওয়া যায় এক তরুণীর লাশ। দিনটি ছিল ১ এপ্রিল।

চাঞ্চল্য তৈরি করা এই ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণ আবু জিয়াদ রিপন এরই মধ্যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। কিন্তু কিভাবে এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলল? কার্টনের গায়ে থাকা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সন্দেহভাজনকে হাতকড়া পরানোর গল্পটা জানালেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। নিহত তরুণীর নাম নাজমা বেগম।

ভাষানটেক থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পর উদ্ধার করা কার্টনের গায়ে থাকা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন তিনি। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ওই নম্বর ব্যবহারকারী ফিরোজ আল আনামকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানা এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে মিরপুর থানার পশ্চিম কাজীপাড়া এলাকায় ‘মেঘা এশিয়া স্কাইশপ’-এর আশপাশে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার দিন (৩১ মার্চ) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার ছেলেটি কাঁধে করে একটি কার্টন নিয়ে বেরিয়ে রিকশায় চলে যান। ভিডিও ফুটেজ দেখে ফিরোজ বলেন, ছেলেটি ওই স্কাইশপের ডেলিভারি বয় আবু জিয়াদ রিপন। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর আসাদ গেট এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রিপন বলেন, মিরপুর ১০ নম্বরের ফুট ওভারব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেয়েটি (নাজমা)। রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পথে পরিচয় হয় তাঁর সঙ্গে। একপর্যায়ে মেয়েটি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তিনিও রাজি হন। সে অনুযায়ী  মেসে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ৪০০ টাকা দেন। কিন্তু মেয়েটি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। এ কথা শুনে তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। টাকা না দিলে থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার হুমকি দেন মেয়েটি। এতে ভয় পেয়ে তাঁর গলা চেপে হত্যা করেন তিনি।

রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর নাজমার লাশ বস্তাবন্দি করে কার্টনের ভেতরে ঢোকান। এরপর স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে পার্সেলের মতো বাক্স তৈরি করেন। কার্টনটি কাঁধে করে বাইরে বেরিয়ে রিকশা নিয়ে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে ফাঁকা জায়গায় যান। দেওয়ালঘেঁষে কার্টনটি নামান। রিকশাওয়ালা ভাড়া নিয়ে চলে যান। পরে ফাঁক বুঝে তিনিও সটকে পড়েন।

প্রসঙ্গত, লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে নাজমার পরিচয় জানা যায়। এরপর নিহতের মা শানু বেগম থানায় এসে ছবি দেখে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে সেদিনই ভাষানটেক থানায় হত্যা মামলা করেন।



সাতদিনের সেরা