kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

সিপিবি নেতা মোর্শেদ আলী চলে গেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিপিবি নেতা মোর্শেদ আলী চলে গেলেন

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোর্শেদ আলী চলে গেলেন। গতকাল বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) ও শ্রদ্ধা জানানোর পর মোর্শেদ আলীর মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়।

সিপিবি সূত্র জানায়, গত ২৬ মার্চ সকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে মোর্শেদ আলীকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এইচডিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। গতকাল ভোরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন কমরেড মোর্শেদ আলী।

প্রয়াত মোর্শেদ আলীর মরদেহ প্রথমে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি অফিস চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমেই সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা কাস্তে-হাতুড়ি খচিত কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা দিয়ে তাঁর মরদেহ আচ্ছাদিত করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সিপিবি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচী, খেলাঘর, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, সাপ্তাহিক একতা, মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

পরে মোর্শেদ আলীর মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। তারপর মিরপুরের বাসায় নেওয়া হয়। ঈশ্বরদীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে সিপিবি নেতারা জানিয়েছেন।

মোর্শেদ আলী কৈশোরেই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) অন্যতম এই প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোর্শেদ আলী ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে তাঁর অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগর শাখা সিপিবির মুখ্য নেতা হিসেবে পার্টি ও গণসংগঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।



সাতদিনের সেরা