kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

সালথায় তাণ্ডব

আহত আরেক যুবকের মৃত্যু গ্রেপ্তার ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফরিদপুরের সালথায় সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় আহত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। মিরান মোল্লা (৩৫) নামের এই যুবকের বাড়ি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামে। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ওই ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামের এক তরুণ আহত অবস্থায় মারা যান। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া।

গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে অফিস-বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের নুরু শেখ ও আমির মোল্লা, বিনোকদিয়া গ্রামের সজিব কাজী ও সাইফুল ইসলাম, ইউসুফদিয়া গ্রামের রাব্বি মাতুব্বর, মিনাজদিয়া গ্রামের ইউনুস মাতুব্বর, ফুকরা গ্রামের আবুল কালাম শেখ, রিপন শেখ ও ইলিয়াস মোল্লা, চিলারকান্দা গ্রামের শহিদুল শেখ, পিসনাইল গ্রামের রুবেল ফকির ও সোনাপুর গ্রামের রাকিবুল ইসলাম।

হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার হাজার লোকের নামে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সালথা থানার এসআই মিজানুর রহমান মামলাটি করেন।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে; অন্য কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আসলাম মোল্লাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তাসলিমা আলী বলেন, ‘তদন্ত কমিটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকৃত সত্য প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারব।’ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য ও সাক্ষ্য নিয়েছি। তিন দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারব।’

অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকা এখনো থমথমে। উপজেলা পরিষদজুড়ে শুধুই হামলা-তাণ্ডবের ক্ষতচিহ্ন। বাতাসে পোড়া গন্ধ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচ আর আসবাবের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা