kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

মাস্ক ব্যবহারে এখনো সমান অনীহা

টিসিবির লাইনে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

রেজোয়ান বিশ্বাস ও জহিরুল ইসলাম   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাস্ক ব্যবহারে এখনো সমান অনীহা

তপ্ত দুপুরে রাজধানীর হাতিরঝিলে মানুষ গিজগিজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। কোথাও ১০ থেকে ১৫ জন করে জটলা করে বসে খোশগল্প করছে। হেঁটে বেড়াচ্ছে অনেকেই। তাদের অন্তত ৫০ শতাংশের মাস্ক নেই। দেশজুড়ে বলবৎ বিশেষ নিষেধাজ্ঞার দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবারের চিত্র এটি।

মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে সবাই প্রায় এক ধরনের উত্তর দেয়, করোনা তাদের কিছু করতে পারবে না। মাস্ক পকেটে আছে। পরলে গরম লাগে, দম বন্ধ হয়ে আসে। এ সময় আশপাশে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য চোখে পড়েনি।

শুধু হাতিরঝিল নয়, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়, মালিবাগ, টিকাটুলিসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে একই ধরনের দৃশ্য চোখে পড়ে। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করলেও তা থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছে। কারো বা হাতে ধরা।

দুপুর ১২টার দিকে বাড্ডার একটি ছোট গলিতে দেখা গেল, আর দশটা স্বাভাবিক দিনের মতো ভিড়। মাস্ক পরা মানুষের চেয়ে মাস্কবিহীন মানুষের সংখ্যা বেশি। জয়নাল নামের এক যুবকও বললেন, মাস্ক পরলে গরম লাগে। সবজি বিক্রেতা জাফর বলেন, মাস্ক পকেটে আছে। মুখে দিলে বেচাকেনায় সমস্যা হয়। মাছ বিক্রেতা শাজাহান মিয়ার ভাষ্য, ‘করোনা আমগো ধরবো না, করোনা গরিব মানুষ দেইহা ভয় পায়।’

সকাল ১১টার দিকে লালবাগ শহীদনগর বউবাজারেও দেখা গেল বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। তবে এলাকার সবজি বাজারের চিত্র ভিন্ন। প্রবেশপথে একজনের হাতে স্যানিটাইজার, আরেকজনের হাতে মাস্ক। বাজারে ঢুকতে হাতে জীবাণুনাশক দিয়ে অনুরোধ জানানো হচ্ছে মাস্ক পরতে। বলা হচ্ছিল, মাস্ক না পরলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। প্রবেশপথে থাকা লিটন বললেন, ‘মাস্ক না থাকলে পাঁচ টাকা করে নিয়ে মাস্ক পরে বাজারে ঢুকতে দিচ্ছি।’

দুপুরের দিকে পুরান ঢাকার লালবাগ, আজিমপুর, চকবাজার, পলাশী মোড়, নয়াপল্টনসহ (ইরাকি মাঠ) বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেও মাস্কের প্রতি মানুষের অনীহা চোখে পড়ে। তরুণ-কিশোরদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা অনেক কম। কথা হয় লালবাগ কেল্লার সামনে কয়েক কিশোরের সঙ্গে। সাজিদুর রহমান নামের এক কিশোরের বক্তব্য, ‘মাস্ক পরতে পরতে কানের পাশে দাগ পড়ে গেছে। এ জন্য এখন আর পরি না।’ তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন বলে ওঠে, ‘আরে কিসের মাস্ক? এক বছর ধরে তো পইরা আছি। আর পারমু না।’ এতে অন্যরা সায় দেয়।

চকবাজার এলাকার চক সার্কুলার রোডে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন বয়স্ক মানুষ। তাঁদের বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক নেই। মান্নান মিয়াজী নামের একজন যুক্তি দিলেন, মৃত্যু এলে কেউ বাঁচাতে পারবে না।

রাস্তাঘাটে অনেকেরই থুতনিতে মাস্ক ঝুলতে দেখা যায়, কারো বা পকেটে। মাস্ক কোথায়, জানতে চাইলে কেউ কেউ ব্যাগ থেকে বের করে দেখিয়েও দেয়। আজিমপুর এতিমখানা মোড়ে এক সিএনজিচালক কথা বলতে বলতে তাঁর ব্যাগ থেকে মাস্ক বের করে দেখান। বলেন, ‘আসলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তাই মাঝেমধ্যে ব্যাগে রেখে দিই।’

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না টিসিবির লাইনে : গতকাল দুপুরে রাজধানীর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছিল। তিনটি লম্বা লাইনে একে অন্যের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল দেড় শতাধিক নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের মুখে মাস্কও নেই।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গা ঘেঁষে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন ও রুস্তম আলীসহ কয়েকজন ক্রেতা একে অন্যের ওপর দায় চাপান। টিসিবির পণ্য বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে লাইনে দাঁড়াতে বলেছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। এরপর পুলিশ ডেকে সবাইকে দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছি, কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর একই অবস্থা।’

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করা হচ্ছে; লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে।’ সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় সব ম্যাজিস্ট্রেটকে একসঙ্গে মাঠে নামানো হচ্ছে না বলে জানান তিনি।