kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

‘অসময়ে’ লবণ কীর্তনখোলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কীর্তনখোলার পানিতে হঠাৎ লবণের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চৈত্র মাসে উপকূল থাকে লবণে ভরপুর। হঠাৎ করে সাগরের পানি বেড়ে গিয়ে তার ঠাঁই হয়েছে কীর্তনখোলায়। আর এর কারণেই কীর্তনখোলার পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। আবার অনেকেই মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে।

বরিশাল নগরের ভাটারখাল কলোনির বাসিন্দারা কীর্তনখোলার পানির ওপর নির্ভরশীল। তাদের মতে, সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে কীর্তনখোলার পানিতে লবণের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মুক্তিযোদ্ধা পার্কসংলগ্ন নদীতে গোসল করতে গিয়ে অনেকেই পানি মুখে দিয়ে লবণের উপস্থিতি টের পায়। প্রথমে বিষয়টি কেউ আমলে নেয়নি। ডিসি ঘাট থেকে স্থানীয় দোকানিরা চায়ের পানি সংগ্রহ করতে গেলে তাতেও লবণের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের সমন্বয়কারী রফিকুল আলম জানান, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা একটি জরিপ চালিয়েছিলেন। শুষ্ক মৌসুমে সাগরের পানি তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত চলে আসে। তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগে উজান থেকে নদীগুলোতে যে পানি আসত, এখন তা কমে আসছে। আর আমাদের এখানে যখন পানির পরিমাণটা কমবে, তখন সাগর থেকে ওই পানির প্রবাহ ঠিকই আসবে। এই কারণে কীর্তনখোলার পানিতে লবণের উপস্থিতি বাড়তে পারে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুজ্জামান সরকার জানান, সব সময় কীর্তনখোলাসহ বরিশাল বিভাগের ১৫টি নদীর পানি পরীক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পানি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে তড়িৎ পরিবাহিতা ও স্যালাইনিটির প্যারামিটারগুলো সীমার মধ্যেই ছিল। কিন্তু মার্চ মাসে ড্রামাটিক্যালি তড়িৎ পরিবাহিতার মান অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি, তবে এখনই নির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ক ম মোস্তফা জামান বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণেই ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চে উপকূলের নদ-নদীতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি থাকে। এ বছর এপ্রিলেও বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টির পানি নদীর লবণাক্ততা কমিয়ে দেয়। কিন্তু হঠাৎ করেই নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। এ কারণেই উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব এলাকার নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। বৃষ্টিপাত হলে স্বাভাবিকভাবেই স্যালাইনিটি কমে যেত।’