kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

করোনা সংকট মোকাবেলা

খাদ্য সহায়তা নিয়ে মাঠে বাম দলগুলো

নিখিল ভদ্র   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপের পর শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ‘শ্রমজীবী খাদ্য ক্যান্টিন’ খুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন। প্রতিদিন দুপুরে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সংকটে পড়া শ্রমজীবী মানুষের কাছে। জানা গেছে, দেশজুড়ে এই ক্যান্টিন খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সহায়তা ছাড়াও করোনা মোকাবেলায় জনগণের পাশে থেকে কাজ করছে বাম দলগুলো। মাস্ক বিতরণ, খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা যেমন দেওয়া হচ্ছে, করোনা আক্রান্তদের সেবায় অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস চালু, অক্সিজেন ব্যাংক তৈরি ও আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও প্রচারপত্র বিলিসহ দেশজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। পার্টির শুভাকাঙ্ক্ষী চিকিৎসকদের নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ‘হেল্পলাইন’ চালু করা হয়েছে। জেলায় জেলায় অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস চালু হয়েছে। খাদ্যসংকট মোকাবেলায় দেশজুড়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ‘শ্রমজীবী খাদ্য ক্যান্টিন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় জনভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে যে কেউ সাধ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী রাখতে পারবেন আর সংকটে থাকা মানুষ সেখান থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিপিবি অতীতে যেকোনো সংকটের মতো এখনো জনগণের পাশে আছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে পার্টির শাখাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পার্টি ও পার্টির গণসংগঠনগুলো নানা ধরনের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি। মানুষকে সরাসরি সহযোগিতা ছাড়াও এলাকা ও গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এর মধ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন, চিকিৎসা, খাদ্য ও অন্যান্য নিরাপত্তার কাজ সহজ হবে। তবে সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবেলা অসম্ভব।’

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় মানবতার বাজার ও ফ্রি অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস চালু করেছি আমরা। কমিউনিটি পর্যায়ে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।  অনাহারি মানুষের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরিশালে একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অক্সিজেন ব্যাংক তৈরির কাজ চলছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আবার এ ধরনের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে মাঠে নামাতে সরকার উদ্যোগও নেয়নি। ফলে জনজীবনে সংকট বেড়েছে। তাই সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনসহ অন্য বাম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার এই সংকটকালে তাঁদের পক্ষ থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, ভ্যানচালক, পঙ্গু ও রিকশাচালক পরিবারগুলোকে খাদ্যসামগ্রী কিনতে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।