kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডব

৪৫ মামলা এক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

আসামি ৩৫ হাজার, গ্রেপ্তার ৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মামলা হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার সদর থানায় আরো ছয়টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলার সংখ্যা ৪৫। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। তবে এ পর্যন্ত  গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৩৩ জন।

অবশ্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতা কিংবা মাদরাসাছাত্র নেই। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা আরমান আলিফ নামের এক যুবক।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও স্থির ছবি দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া তাণ্ডবে ৪৫ মামলার মধ্যে সদর থানায় ৪০টি, আশুগঞ্জ থানায় দুটি, সরাইল থানায় দুটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়। ৪৫টির মধ্যে ছয়টি মামলায় ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি সবাই ‘অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী’। কোনো কোনো মামলায় ‘অজ্ঞাতনামা কওমি মাদরাসাছাত্র-শিক্ষক ও তাঁদের অনুসারী দুষ্কৃতকারীদের’ কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কোনো মামলায়ই হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীর নাম নেই।

নাগরিক সেবা শুরু : প্রাত্যহিক সেবা অবশেষে চালু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। গতকাল সকাল থেকে পৌরসভার উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ শুরু করা হয়েছে। দুপুরে কাউতলী, কুমারশীল মোড় এলাকায় ময়লা-আবর্জনা সরাতে দেখা যায়। তবে আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণে মেয়রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো নিজ কার্যালয়ে বসতে পারেননি। 

হেফাজতের দুঃখ প্রকাশ : হরতালের দিন তাণ্ডবের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেউ জড়িত নয় উল্লেখ করে ভিডিও ফুটেজ দেখে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় তারা। গত সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হেফাজত নেতারা।

এ সময় হেফাজতের নায়েবে আমির সাজিদুর রহমান বলেন,  ‘কে বা কারা ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমার জানা নেই। পরে আমরা বিষয়টিতে নিন্দা জানিয়েছি। আজকেও আমরা নিন্দা জানাচ্ছি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের বের করা আপনাদের দায়িত্ব।’

এ সময় জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতের জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারকুল্লাহ বলেন, ‘প্রেস ক্লাব ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা আমরা করেছি, এই কথাটি অবিশ্বাসযোগ্য। আমরা এ ধরনের কাজ কখনোই করি নাই।  কে বা কারা করছে, এ বিষয়টি বের করতে হবে।’

নেতাদের পরিদর্শনের পর হেফাজতে ইসলামের সংবাদ বর্জনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি থেকে সরে আসে প্রেস ক্লাব।

চুল-দাড়ি কেটেও রক্ষা হয়নি আরমানের : হেফাজতের হরতাল চলাকালে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরকারী মো. আরমান আলিফ (২২) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের চাতলপাড় ইউনিয়নের ফুলকাকান্দি গ্রামের মো. শুকুর আলীর ছেলে। আরমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গ্রেপ্তারের পর গত সোমবার বিকেলে আরমানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে হাজির করে র‌্যাব। এ সময় জানানো হয়, নিজেকে বাঁচাতে ঘটনার পরদিন চুল-দাড়ি কেটে ফেলেন আরমান। তাঁর কাছ থেকে পিস্তল, গুলি, ম্যুরাল ভাঙার শাবল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান,  ভিডিও ও স্থিরচিত্র দেখে গত শনিবার থেকে আরমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। রবিবার রাত ৯টার দিকে তাঁকে বিশ্বরোড মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কাজীপাড়ার বাসা থেকে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও হামলায় ব্যবহৃত শাবল উদ্ধার করা হয়।