kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

পাট খাত সংস্কারে ফের এডিবির ঋণ

‘মিলগুলো লিজ দিতে নীতিমালা প্রস্তুতির কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাট খাত সংস্কারে ফের এডিবির ঋণ

রাষ্ট্রীয় খাতের পাটকলগুলো সংস্কারের জন্য সরকার আবারও এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) কাছ থেকে ঋণ নিতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ খাতে ৫০০ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার ঋণ দিতে এডিবি সম্মত হয়েছে। পাট খাতে কিভাবে এই টাকা ব্যবহৃত হবে এবং রাষ্ট্রীয় পাট খাত সম্পর্কে সরকারের ভাবনা কী, তা জানতে গতকাল মঙ্গলবার বিজেএমসির (বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন) সঙ্গে এডিবি প্রতিনিধিদলের এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বিজেএমসির পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো. আব্দুল মালেক অংশ নেন। 

সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বন্ধ করে দেওয়া পাটকলগুলো আবারও লিজের মাধ্যমে চালু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আগের মতো একেবারে মিলের সব সম্পদ লিজ গ্রহণকারীকে তুলে দেওয়া হবে না। মিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য ব্যক্তিমালিকের কাছে দেওয়া হলেও মিলগুলো কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরকার মনিটর করবে। পাশাপাশি মিলগুলোর অন্যান্য সম্পদও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সে কারণে বিজেএমসি বিলুপ্ত করা হচ্ছে না, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের দায়দায়িত্ব কেমন হবে, সেই নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিজেএমসির আওতায় পাটকলের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী করার জন্য সরকার বিজেএমসিকে এই টাকা দিতে যাচ্ছে। 

গতকালের সভায় এডিবি প্রতিনিধিদের পক্ষে বন্ধ করে দেওয়া পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয় জানতে চাওয়া হয়। বদলি বা অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার কারণ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া চারটি মিল শুধু অস্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে পরিচালনার কারণ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়।

বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সংখ্যা ২৫। এতে স্থায়ী শ্রমিক ছিলেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার। শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসর দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি স্থায়ী শ্রমিকদের বেশির ভাগকেই পাওনার অর্ধেকাংশ নগদ এবং বাকিটা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি যেসব স্থায়ী শ্রমিক এখনো টাকা পাননি, তাঁদের সঙ্গে আইনি বিরোধ রয়েছে বলে বিজেএমসির পক্ষে সভায় জানানো হয়। তবে অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করা সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

গতকালের (৬ এপ্রিল) সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজেএমসির চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এডিবির ঋণের একটি অংশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিজেএমসি পাবে। এ কারণে এডিবি বিজেএমসির কাছে কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিল। সে কারণেই ভার্চুয়ালি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মিলগুলো লিজ দেওয়ার জন্য নীতিমালা প্রস্তুতির কাজ চলছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির এক আদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন, পরিত্যক্ত ও সাবেক ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ৭৮টি পাটকল নিয়ে বিজেএমসি গঠিত হয়। ১৯৮১ সালে মিলের সংখ্যা বেড়ে হয় ৮২। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সময় ৩৫টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটটি পাটকলের পুঁজি প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বব্যাংকের পাট খাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১১টি পাটকল বন্ধ, বিক্রি ও একীভূত করা হয়। ২০০২ সালের জুনে বন্ধ হয় আদমজী জুট মিল। বিজেএমসির আওতায় সর্বশেষ ছিল ২৬টি পাটকল। এর মধ্যে একটি বন্ধ ছিল। চালু ছিল ২৫টি, যার মধ্যে ২২টি পাটকল ও তিনটি নন-জুট কারখানা।

পাট খাতে গৃহীত নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭৫-পরবর্তীকালের সরকারগুলোর উদাসীনতা ও উপেক্ষার ফলে পাট ও পাটশিল্পে দুরবস্থা তৈরি হয়। পাটশিল্প বিরাষ্ট্রীকরণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ হুবহু অনুসরণ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির (স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট পলিসি বা স্যাপ) আলোকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। ১৯৮২ সাল থেকে এই বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে পাটকলগুলোর তাঁতসংখ্যা ২৬ হাজার থেকে ১৬ হাজারে নামিয়ে আনা হয়। এতে মোট উৎপাদন কমে যায়।