kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

বাকৃবির গবেষকের সাফল্য

লার্ভা খেয়ে মশা কমাবে দেশি মাছ

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মশার উপদ্রবে বিপর্যস্ত মানুষ। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের মধ্যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগায়। কিন্তু দেশে মশা তাড়াতে ব্যবহৃত হয় ক্ষতিকর কয়েল, স্প্রে ও কীটনাশক,  যা পরিবেশ ও মানুষের শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ থেকে রক্ষা পেতে মশাভুক্ত দেশি মাছ দিয়ে জৈবিক পদ্ধতিতে লার্ভা নিধনে সাফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের মাৎস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ। গতকাল রবিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর গবেষণার এসব সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। শুধু দেশি প্রজাতির মাছ দিয়েই এটি সম্ভব বলেও জানান ওই গবেষক।

ড. হারুনুর রশীদ বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা দমন সম্ভব নয়। তাই মশার বিস্তার রোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেওয়া উচিত। সমন্বিত ব্যবস্থাপনাগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে ‘জৈবিক বালাইদমন’। রাসায়নিক বালাইদমন পদ্ধতিগুলো ‘দ্রুত কার্যকর’ মনে হলেও এগুলোর প্রভাব স্বল্প মেয়াদের। তাই শুধু রাসায়নিক বালাইদমন করে মশা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ভুল। মশা নিয়ন্ত্রণে সফল দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাব, সারা বছর ধরেই বেশ কয়েকটি জৈবিক ও রাসায়নিক দমন পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমেই মশা ও মশাবাহী রোগের দমনে সাফল্য এসেছে। তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো সমন্বিত কাজ ছিল না। আর এ কারণে জৈবিক উপায়ে মশা নিধন করার জন্য ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে একটি গবেষণা করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল মশা নিধনের জন্য (মশক লার্ভা ভক্ষণ) দেশি জাতের কিছু মাছের সঙ্গে বিদেশি জাতের মাছের দক্ষতা তুলনা করা। এটি করতে গিয়ে আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন ড্রেনের ও নর্দমার নোংরা পানিতে প্রচুর পরিমাণ ‘মসকুইটো ফিশ’ পেয়েছি এবং এরা এই নোংরা পানিতে খুব ভালোমতোই বেঁচে থাকতে পারে। আর তাদের পেট কেটে দেখেছি প্রচুর পরিমাণে মশার লার্ভা। মাছটি কিছুটা আমাদের দেশি দাড়কিনা মাছের মতো দেখতে এবং শহরের অ্যাকোয়ারিয়াম শপগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে।”

ড. হারুন বলেন, “ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েক বছর আগে এই মাছ ও গাপ্পি ছাড়া হয়েছিল। এ মাছগুলো ড্রেনের নোংরা পানিতে শুধু বছরের পর বছর টিকে আছে তাই নয়, বংশবিস্তারও করছে। সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ মশার লার্ভা খেয়ে আমাদের সাহায্য করছে। পরবর্তী সময়ে ‘মশকুইটো ফিশ’ ছাড়াও আরো কিছু দেশি-বিদেশি মাছ ল্যাবরেটরিতে আমি পরীক্ষা করেছিলাম। গবেষণায় দেখেছি, বিদেশি ‘মশকুইটো ফিশ’ বা গাপ্পির তুলনায় মশক লার্ভা ভক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশি জাতের খলিসা মাছের দক্ষতা প্রায় দ্বিগুণ। লার্ভা দমনের ক্ষেত্রে বিদেশি মাছের তুলনায় দাড়কিনা মাছের দক্ষতাও ভালো, কিন্তু নর্দমার পানিতে এই মাছ বেশিদিন টিকে থাকে না। পক্ষান্তরে খলিসা শুধু মশার লার্ভা ভক্ষণেই ভালো নয়, এটি ড্রেনের পানিতে অভিযোজন ও টিকে থাকার হারও ভালো। এসব মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদন খুবই সহজ। সিটি করপোরেশনগুলো এসব মাছ শহরের বদ্ধ জলাশয়গুলোতে নিয়মিতভাবে প্রতিবছর ছেড়ে দিতে পারে। এতে করে এসব জলাশয়ে মশা ডিম ছাড়লে উৎপন্ন লার্ভা খেয়ে দেশি মাছগুলো মশা দমনে অনেক অবদান রাখবে।”

দেশের স্বার্থে এ পোনা প্রযুক্তি সরবরাহ, পোনা উৎপাদনের প্রশিক্ষণ সহায়তা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিশেষজ্ঞদল বিনা পারিশ্রমিকে সহায়তা দেবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।



সাতদিনের সেরা