kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

দেশ গড়ায় আন্তরিকভাবে কাজ করুন

এনএসআই সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশ গড়ায় আন্তরিকভাবে কাজ করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নবনির্মিত ভবনের শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেওয়া হয়। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই এনএসআইয়ের প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্যপরায়ণতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে এনএসআইয়ের নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি এই ভবন উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার নেতৃত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু পঁচাত্তরের পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা জাতির পিতার সেই আদর্শকে ফিরিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই মর্যাদাটা ধরে রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য।’

তিনি এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘একটা বিষয় আপনাদের লক্ষ রাখতে হবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি এবং এসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে। এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক বা দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেই বিষয়ে অবশ্যই আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে, সেটাই আমি আপনাদের অনুরোধ করব।’

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এই অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তোরণ ঘটাতে পারবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সে জন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাই সবাইকে একযোগে কাজ করার আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’

গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএসআইয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআইয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরীকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এনএসআই সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের পরে বিভিন্ন পদে মোট এক হাজার ৬০১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, যা এর আগে কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’

তাঁর সরকার এ সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বিভিন্ন পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ও বেতন স্কেল সমন্বয় করা হয়েছে।

গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯.৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলে দেশে অব্যাহত উন্নয়নের পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রথম দফা আগ্রাসনের মতো দ্বিতীয় দফাতেও এনএসআই সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। অতিমারির এই সংকটকালেও আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, দারিদ্র্যের হার কমছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় সময় উপযোগী যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই অর্থনৈতিক উন্নতির এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকার এরই মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা যাতে যথাযথভাবে সবাই পালন করে সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও যেন সচল থাকে, সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন। তবে মানুষের জীবনটা আগে।’ সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা