kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ মানবতাবিরোধী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাইকোর্ট বলেছেন, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে নাগরিকের চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকার কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের খেয়ালখুশি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ বা বারিত করা অসাংবিধানিক। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারো ওপর এ ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ সংবিধান ও মানবতাবিরোধী পদক্ষেপ।

নরসিংদীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের বিদেশে যাওয়ার ওপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গ রায়টি গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, ‘সংবিধান ও আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতির আলোকে আমাদের অভিমত ব্যক্ত করতে কোনো দ্বিধা নেই যে কমিশন কর্তৃক আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে গৃহীত ব্যবস্থা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হয়েছে এবং এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।’

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আবেদনের ওপর আজ ৫ এপ্রিল আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

হাইকোর্ট গত ১৬ মার্চ আতাউর রহমানের বিদেশে যাওয়ার ওপর দুদকের নিষেধাজ্ঞা অবৈধ বলে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিধিতে অনুসন্ধান বা তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। আদালতের অভিজ্ঞতা হলো, কমিশন কিংবা অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা/কর্তৃপক্ষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম আইন বা বিধিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারে না। অবশ্য রায়ে বলা হয় যে অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে সন্দেহভাজন বা অভিযুক্ত অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে দেশ ত্যাগ করছে এবং পরে তাদের আর আইন-আদালতের সম্মুখীন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে দুর্নীতি বা অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলায় কিংবা অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দেশত্যাগে বারিত বা তার চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা বিধি প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ওই আইন বা বিধিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশত্যাগে বারিত করার কারণ জানানোর সুযোগ রাখতে হবে। সে জন্য এর সময়সীমা নির্দিষ্ট করাও ন্যায়সংগত হবে। পাশাপাশি গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বক্তব্য/আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখতে হবে।

রায়ে বলা হয়, অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে অপরাধলব্ধ বা অবৈধ সম্পত্তি অবরুদ্ধ বা ক্রোক করার বিধান থাকলে একই যুক্তিতে ওই সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তির দেশত্যাগে বারিত করার সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়নে দ্বিধা থাকা উচিত নয়।

আদালত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিমত জানিয়ে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত হবে যে অনুসন্ধান বা তদন্ত পর্যায়ে সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে দেশত্যাগে বারিত করার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইন বা বিধি প্রণয়ন করা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের আইন বা বিধি প্রণয়ন করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রতিনিধির মাধ্যমে আদালতে আবেদন জানালে আদালত সন্তুষ্টি সাপেক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যার মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হবে না, বারিত আদেশ কিংবা স্বীয় বিবেচনায় ন্যায়সংগত অন্য কোনো আদেশ দিতে পারবেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পক্ষ ওই আদেশ বাতিল বা প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন জানাতে পারবে। সে ক্ষেত্রে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবেন।

গত বছরের ২৪ আগস্ট আতাউর রহমানের সম্পদের তথ্য চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। এই নোটিশের পর ২২ অক্টোবর তিনি তাঁর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিল করেন। দুদক সম্পদের তথ্য পেয়ে অনুসন্ধানে নামে। এ পর্যায়ে ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর তাঁর বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় দুদক। ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন আতাউর।



সাতদিনের সেরা