kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বিদেশফেরতদের এবার কঠোর কোয়ারেন্টিন

মাসুদ রুমী   

৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশফেরতদের এবার কঠোর কোয়ারেন্টিন

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে এবার বিদেশফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে আর গাফিলতি চলবে না। এবার কঠোর কোয়ারেন্টিন বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের যেকোনো দেশ থেকে এলেই শতভাগ যাত্রীকে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। একই সঙ্গে অন্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ থাকলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর থেকে প্রত্যেক যাত্রীর তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হবে। তারা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে এক সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নতুন এই সিদ্ধান্ত সোমবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বেবিচকের ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের সদস্য চৌধুরী এম জিয়াউল কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আগত ও বাংলাদেশ ত্যাগ করা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার নেগেটিভ সনদ সঙ্গে রাখতে হবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো থেকে যাঁরা আসবেন তাঁদের জন্য ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাঁরা বেবিচক নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার অথবা নির্ধারিত হোটেলে থাকবেন। তবে এ ক্ষেত্রে হোটেলে থাকার খরচ যাত্রীদের বহন করতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, বিমানবন্দর ও ফ্লাইটে সব যাত্রীকে মাস্ক পরতে হবে। এ ছাড়া যেসব বিমানের প্রতি সারিতে সিট তিনটি করে, সেই ফ্লাইটের মাঝের সিটের যাত্রীকে মাস্কের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ফেসশিল্ড পরতে হবে।

জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে সবাইকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছি। এটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। বাকিদের হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছি, তবে তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর তদারকি করার কথা বলা হয়েছে।’

এদিকে করোনা সংক্রমিত দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে আমরা যদি ঝুঁকি প্রশমন করতে না পারি তাহলে সরকারের নির্দেশ মতো আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট আপাতত বন্ধের পরিকল্পনা নেই। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।’

জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘ইউকে ও ইউরোপফেরতদের শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে না থাকতে চাইলে কিংবা সিট খালি না থাকলে নির্ধারিত হোটেলে থাকতে হবে নিজ খরচে। আগে এটা ছিল শুধু ইউকের জন্য, এখন এটা পুরো ইউরোপের জন্য। অন্য দেশ থেকে এলে কভিড নেগেটিভ সনদ থাকলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা স্বাস্থবিধি মেনে চলার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের নতুন সংযুক্ত উড়োজাহাজগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত হেফা ফিল্টার আছে, যেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়োজাহাজকে জীবাণুমুক্ত করতে সক্ষম।’



সাতদিনের সেরা