kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত

আমাদের ভবিষ্যৎ আরো উজ্জ্বল

মেহেদী হাসান, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে   

৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের বিদ্যমান উজ্জ্বল সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো উজ্জ্বল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কোরীয় রাষ্ট্রদূত লি জেন-কিউন। তিনি গত সোমবার চট্টগ্রামে কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (কেইপিজেড) বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওই আশার কথা জানান। ইয়ংওয়ানসহ বাংলাদেশে কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈচিত্র্যময় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উজ্জ্বল, অনেক উজ্জ্বল দেখতে পাচ্ছি। এর কারণ খুব সহজ।’

রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্যের সময় তাঁর পাশে ছিলেন ইয়ংওয়ান প্রধান কিহাক সাং। রাষ্ট্রদূত ও ইয়ংওয়ান প্রধান ডিকাব সদস্যদের স্বাগত জানান এবং কেইপিজেডের স্থাপনাগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান। এ সময় অন্যদের মধ্যে কেইপিজেড প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সাদাত উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ নিয়ে দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী চং সি-কানের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব প্রেক্ষাপট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোরিয়ার পর্যবেক্ষণ প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। আমরা একসঙ্গে আমাদের সম্পর্কে নতুন ঔজ্জ্বল্য আনব।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বুকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্রুত উত্থান দক্ষিণ কোরিয়ার বড় নদী হানের মতো বিস্ময়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে দেখে অত্যন্ত অভিভূত। এমনকি কভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্ব অর্থনীতি মন্থর হয়েছে তখনো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ মাত্রায়।

কভিড মহামারির মধ্যে বাংলাদেশ ও কোরিয়া—দুই দেশই উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিগত দশকগুলোতে আমরা চমৎকার সম্পর্ক উপভোগ করেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ আরো উজ্জ্বল।’

তিনি বলেন, কেইপিজেড কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সহযোগিতার প্রতীক। ৪০ বছর আগে ইয়ংওয়ান এখানে এসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও বহিরাঙ্গনের প্রতি সাধনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৪ সালে ইয়ংওয়ান করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই বেশ অনন্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এ সম্পর্ক অনেক অসাধারণ।’

তিনি বলেন, কোরীয় কম্পানিগুলোর বাংলাদেশের সঙ্গে বিকশিত হয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক এই দেশের প্রধান শিল্প।

কেইপিজেডের স্থাপনা ও কারখানাগুলো ঘুরিয়ে দেখিয়ে ইয়ংওয়ান চেয়ারম্যান কিহাক সাং বলেন, কিছু কোরীয় কম্পানি এই অঞ্চলে আসতে খুবই আগ্রহী। আমি তাদের এখানে আসতে এবং বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এবং এর আশপাশে অবকাঠামোর দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। কিহাক সাং বলেন, ‘আমি অবশ্যই বলব, আমরা আরো ভালো করব—এ ব্যাপারে আমি খুব আশাবাদী। আরো বিনিয়োগ আনতে আমরা খুব ভালো কাজ করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) উন্নয়নের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী আছে। এটি আইসিটি উন্নয়নের জন্য বড় সুযোগ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর অংশীদার হতে পারে।



সাতদিনের সেরা