kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

কিশোরীকে ধর্ষণ, পাঁচ লাখ টাকায় এনজিও অফিসে দফারফা

রাঙামাটি ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙামাটি শহরে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর ‘পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ’ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ মার্চ রাতে মেয়েটির এক আত্মীয়র বাসায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। ২৮ মার্চ শহরের বনরূপার হ্যাপির মোড় এলাকায় অবস্থিত নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি এনজিও অফিসে পাঁচ লাখ টাকায় ঘটনাটি রফাদফা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ফুফা ও বিজিবি সদস্য বলে জানা গেছে। এদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি শিশুকে (৬) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ব্যক্তির (৬০) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী জানায়, তার ফুফা ২৫ মার্চ ছুটি কাটাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাঙামাটির কেকে রায় সড়কের নিজ ভাড়া বাড়িতে আসেন। ফুফু চাকরির কারণে সেদিন বিলাইছড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষে ফুফা চুয়াডাঙ্গা থেকে আনা বেলের শরবত তাকে (ছাত্রী) ও তার ফুফাতো বোনকে খাওয়ান। এটি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘোরালে কিশোরী কক্ষে চলে যায় এবং ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ২টার দিকে ঘুম ভাঙলে নিজেকে সে বিবস্ত্র অবস্থায় এবং বাতি জ্বালালে কক্ষে ফুফাকে দেখতে পায়। পরের দিন ভুক্তভোগী কাছেই তার স্কুল শিক্ষিকার কাছে গিয়ে বিষয়টি খুলে বলে এবং তার মা-বাবাকে খবর দেয়। এ ঘটনার জন্য সে অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করে।

স্কুল শিক্ষিকা প্রতিষ্ঠা চাকমা বলেন, ‘পরে তাদের পারিবারিক সমঝোতা হয় বলে জেনেছি। আমাদের আর কিছু বলা হয়নি।’

অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, এটি পারিবারিক বিষয়। পারিবারিকভাবেই বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘রবিবার রাতে রাঙামাটি শহরের চম্পকনগর মোড়ে একটি এনজিও অফিসে সালিস হয়। সালিসে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দোষ স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চায় এবং আমার মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্বভার নেয়। মেয়ের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। একদিকে আত্মীয় আর আমরাও গরিব মানুষ। তাই মেনে নিয়েছি। কী আর করব!’

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুয়েল দেওয়ান এই সালিসের কাগজপত্র লেখালেখি করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা। তবে জুয়েল দেওয়ান বলেন, ‘যারা নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, তারাই এটি করেছে। আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছে মাত্র। ওখানে নারী নেত্রী সুগন্ধী চাকমা ও অনিতা দেব বর্মন ছিল বলে শুনেছি। আমি কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নই।’

এনজিও ‘প্রোগ্রেসিভ’-এর অফিসে সালিসটি হয়েছে। প্রোগ্রেসিভের সদস্য সুগন্ধী চাকমা বলেন, ‘মেয়ের পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি, যেহেতু তারা উভয়ে আত্মীয়। আমরা তো কোনো সমাধান দিতে পারি না। আমরা রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারি মাত্র। ওখানে মেয়ের দাদু উপস্থিত ছিলেন; তিনিই সমাধান দিয়েছেন। যেটি হলো মেয়েটি অন্য কোথাও থাকবে আর মেয়েটির লেখাপড়ার জন্য প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা করে মোট পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে।’

শিশু নিপীড়ন, হাসপাতালে ভর্তি

কোম্পানীগঞ্জে গত ১৫ মার্চের ঘটনায় অভিযুক্ত আহছান উল্যাহ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের মান্ত ভূঞাবাড়ির (নিত্যহনি বাড়ি) মৃত আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা গত রবািবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।



সাতদিনের সেরা