kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই জেলা-উপজেলায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই জেলা-উপজেলায়

কভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা মানার ব্যাপারে জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে তেমন অগ্রগতি নেই। কোথাও কোথাও অভিযান চালানো হলেও তার পরিসর খুবই সীমিত। এ ছাড়া জনসাধারণকে সতর্ক করার মতো কোনো সরকারি কর্মসূচিও চোখে পড়েনি।

কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস জানায়, শহরের বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরে না। যদিও সেখানে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক দিনে অনেক বেড়ে গেছে। জেলা প্রশাসক অসিব আহসান বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দরকার হলে প্রশাসন এবার কঠোর হবে।’

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সেখানে নির্দেশনা মানার ব্যাপারে দোকানদার, পরিবহন শ্রমিক, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অনেকটাই অনীহা লক্ষ করা গেছে। একাধিক বাসচালক জানান, বাসে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা তাঁরা শুনেছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, সেখানে স্বাস্থবিধি মেনে চলার ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষই উদাসীন। হাটবাজারে মানুষজনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কারণ জানতে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই মাস্ক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। কভিড-১৯-এর ঝুঁকি কমে গেছে—এমন আত্মবিশ্বাসেও ভুগছে অনেকে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। হাটবাজারগুলোতে বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক না পরেই চলাফেরা করছে।

উপজেলা করোনা প্রতিরোধ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউএনও আশেকুল হক বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টার পর থেকে বাজারগুলোতে মানুষজনের চলাচল সীমিত করতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আমি মাঠে কাজ করব। পাশাপাশি মাইকিং করা হচ্ছে।’

খুলনা অফিস জানায়, সংক্রমণ বেড়ে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই। বিশেষ করে তরুণরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। না হলে অবস্থা খারাপ হতে পারে।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বড় পরিসরে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।’

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারিয়া হক। এ সময় আদালত উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের চিতারবাজারে চার ব্যবসায়ীকে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জরিমানা করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বরাত দিয়ে চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, করোনা মোকাবেলা বিষয়ে আজ বুধবার বৈঠক হবে। সেখানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন জেলা প্রশাসক। সরেজমিন দেখা গেছে, সেখানে সরকারের নির্দেশনা বেশির ভাগ মানুষই মানছে না। বিশেষ করে যাত্রীবাহী লঞ্চ, বাস চলাচল করছে ধারণক্ষমতার আগের মতোই।

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সেখানে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। গাদাগাদি করে ট্রেনসহ গণপরিবহনে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, ‘সোমবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) মাইকিং করা হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা