kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপচারিতা

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শিল্পীর জন্যও মনের খোরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শিল্পীর জন্যও মনের খোরাক

সমুদ্র মন্থন করতে হলে সমুদ্রের কাছে যেতে হয়। তার ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। দূর থেকে সমুদ্রকে মন্থন করা যায় না। ঠিক তেমনি করেই সংগীতকে উপলব্ধি করতে হলে সুর আর রাগের ভেতরে ডুব দিতে হয়। আর কাজটি করতে পারেন শুধু একজন সুরশিল্পী। তেমনি এক বিশ্ববরেণ্য কণ্ঠশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সপরিবারে বাংলাদেশে এসেছেন এই শিল্পী। গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা স্মরণ করে অজয় চক্রবর্তী বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ ‘আমারে দাবায়ে রাখতে পারবা না’ আমি জীবনে অনেকবার শুনেছি। আমার মনে হয়, এটা প্রত্যেক শিল্পীর মনে থাকা উচিত। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুন করে জানা যায়। ফলে একজন শিল্পীর জন্যও এই ভাষণ মনের খোরাক।”

নিজের নতুন রাগ ‘মৈত্রী’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা প্রসঙ্গে এই সুরস্রষ্টা বলেন, “রাগ একটা সমুদ্রের মতো। আর সমুদ্রকে একটা গ্লাসে তুলে ধরা যায় না। এর জন্য সময় দরকার। আমার নতুন রাগের নাম ‘মৈত্রী’। এটা এর আগে আমি কোথাও গাইনি, শুধু বাংলাদেশে এসে তাদের স্বাধীনতা দিবসে গাইব বলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাকে অনুরোধ করেন একটি রাগ রচনা করতে। আমি রাগটি রচনা করি। এর জন্য সময় দরকার হয়েছে, পরিশ্রম লেগেছে এবং সর্বোপরি এই রাগটি উৎসর্গ করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন মানুষের প্রয়োজন হয়েছে।”

দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে এই বরেণ্য শিল্পী বলেন, ‘আমি চাই আরো ১০ জন অজয় চক্রবর্তী হোক। তার মধ্যে পাঁচজন ভারতে এবং পাঁচজন বাংলাদেশে হোক। আমি কখনোই এই দেশকে বাদ দিয়ে সংগীতে এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা করি না। কারণ আমিও এই বাংলারই সন্তান।’

দুই দেশের সংগীতের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বন্ধনের কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পণ্ডিত অজয়। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীর চলে হাওয়ার মাধ্যমে, শ্বাসের মাধ্যমে। এই হাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন সংগীত। আর সেই সংগীতের অন্যতম পীঠস্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। মনকে শান্ত করতে চাইলে আমরা একটা সুর গাই, অর্থাৎ গান গাই। আর এই গানের বড় জায়গা হলো বাংলাদেশ। আজ যদি বাংলাদেশ না থাকত, তাহলে পঞ্চকবির গান হতো না। কারণ তাঁদের গান এই বাংলায় যেভাবে হয়, ওই বাংলায় সেভাবে হয় না। তাই আজকে আমি এই দেশে আসতে পেরে ধন্য মনে করছি।’ তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি রত্নখনি। এই দেশের ছেলে-মেয়েদের গলা চমৎকার, খুব ভালো গায় এরা। এদের বাঁচিয়ে রাখা উচিত, এদের রক্ষণ করা উচিত। আর তার জন্য দরকার একটা শিক্ষাপদ্ধতি, যেটা এখানে একটু কম।

আজকের অবস্থানে আসতে তাঁর নিরন্তর পরিশ্রমের কথা তুলে ধরা পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা এক দিনে হয়নি। এটা আমার বহু বছরের চর্চার ফল। আমি রাত-দিন নিজেকে তৈরি করেছি, রেওয়াজ করেছি, পরিশ্রম করেছি। তাইতো আজ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। তবে এই পরিশ্রমের চেষ্টাটা বাংলাদেশে একটু কম।’