kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

‘ভৌতিক’ আগুনে নিঃস্ব ৬ পরিবার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রহস্যজনকভাবে লাগা আগুনে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ছয়টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আগে ঘরের টিনের চালে ঢিল ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এর ৪৫ মিনিট পর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকের ছয়টি পরিবারের বসতঘরে একসঙ্গে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহৃর্তেই আগুনের লেলিহান শিখায় এসব দরিদ্র পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত শনিবার রাত পৌনে ২টায় উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানী গ্রামের মনু ভূঁইয়া পাড়ার শীলবাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবি, এটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয়। পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। তাঁরা ধারণা করছেন, জায়গা-জমি নিয়ে এলাকার দুটি মুসলিম পরিবারের সঙ্গে চলমান বিরোধই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরীহ এই ছয় হিন্দু পরিবারের জন্য। তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার বিষয়টিও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শনিবার রাত পৌনে ২টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাসুদেব শীল, জয়দেব শীল, রঞ্জিত শীল, নয়ন শীল, স্বপ্না রানী শীল ও সহদেব শীলের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার রাতে ও রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) লাবিব আব্দুল্লাহ, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুবল চাকমা ও মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমান।

গতকাল রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে সর্বস্ব খুইয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্বপ্না রানী শীল বলেন, ‘আগুন লাগানোর ঘণ্টাখানেক আগে ঘরের টিনের চালে বেশ কয়েকটি ঢিল ছোড়া হয়। এ সময় ঘুম ভেঙে গেলে আমরা বাইরে যাই। কিন্তু কারো দেখা না পেয়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি। এরপর রাত পৌনে ২টা নাগাদ সব কটি ঘরে একসঙ্গে আগুন লাগে। এটি সাধারণ কোনো আগুন নয়, নিশ্চয়ই কেউ লাগিয়েছ।’

এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, ‘৫০ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে পাশের দুটি মুসলিম পরিবারের বিরোধ রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এই বিরোধ থেকে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটতে পারে।’

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি।’