kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

যুক্তরাজ্যের ‘আনলিমিটেড ফেস্টিভাল’-এ বিশেষভাবে সক্ষম বাংলাদেশের দুই শিল্পী

২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদারীপুরের মো. সাদ্দাম বেপারী এবং নারায়ণগঞ্জের মোরশেদ মিয়া তরুণ দুই প্রতিভাবান শিল্পী। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলের কাছে হার মেনেছে তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বিশেষভাবে সক্ষম এই দুই শিল্পী। যুক্তরাজ্যে আয়োজিত চলতি বছরের ‘আনলিমিটেড ফেস্টিভ্যাল’ -এ যুক্তরাজ্য ও জাপানের ভিন্নভাবে সক্ষম শিল্পীদের সাথে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন তারা। উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকে তারা অংশ নিয়েছেন এবং অনলাইনে যুক্ত হয়ে অন্য শিল্পীদের পাশাপাশি ‘টেম্পেস্ট’ সম্পর্কে তাদের চিন্তাভাবনা ও স্বপ্নের কথা তারা তুলে ধরেন। 

ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে জাপানের আউলস্পট থিয়েটার এবং যুক্তরাজ্যের গ্রেআই থিয়েটারের সহযোগিতায় তৈরি নাটকটির মূল লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে আসা ভিন্ন ভাষার (কথ্য এবং ইশারা) মানুষেরা কীভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের থিয়েটার সারাবিশ্বের সামনে মঞ্চায়ন করতে পারে। পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে জাপান ও যুক্তরাজ্যের শিল্পীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাদ্দাম ও মোরশেদ অংশগ্রহণ করেন। গত বছর মে মাসে নাটকটি মঞ্চায়নের কথা থাকলেও করোনা মহামারির জন্য তা পিছিয়ে যায়। আসন্ন জুন মাসে জাপানের টোকিওতে মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে এই নাটক।   

বিশেষভাবে সক্ষম মানেই প্রতিভাহীনতা কিংবা পিছিয়ে পড়া নয়। সমাজ অনেক এগিয়ে গেলেও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ এবং দৃষ্টিভঙ্গি এখনো গড়ে ওঠেনি। সমাজের নানা প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করে শিল্পপ্রতিভার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চান মোরশেদ ও সাদ্দাম। ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকটি তাদের জন্য নতুন এক অনুপ্রেরণা। এ সম্পর্কে মোরশেদ বলেন, ‘আমি মিরান্দার মতো ভালবাসা পেতে চাই, মুক্ত হতে চাই এরিয়েলের মতো, এবং ক্যালিবানের মতো স্বাধীনতা পেতে চাই। টেম্পেস্ট যেনো আমার জীবনেরই একটা অংশ হয়ে গেছে।’  

আনলিমিটেডের এই ডিজিটাল উৎসব ছিল সারা বিশ্বের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার মানুষের সৃজনশীল দক্ষতা প্রদর্শনের অসাধারণ পস্ন্যাটফর্ম। এতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশেষভাবে সক্ষম দেশি এই দুই তরুণ শিল্পী উজ্জীবিত হয়েছেন নতুন প্রাণশক্তিতে। সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর প্রদর্শনী করতে চাই যেন মানুষ বোঝে যে আমাদের বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা থাকলেও একসাথে আমরা এমন বড় কিছু করতে পারি।’   

২০১৬ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ, ঢাকা থিয়েটার ও গ্রেআই থিয়েটারের বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত ‘আ ডিফারেন্ট রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকে অসাধারণ পারফর্মেন্সের জন্য মোরশেদ ও সাদ্দামকে এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়।

শিল্পকলা বরাবরই আমাদের দেশে ভাব প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং আমাদের সমাজে শিল্পীদের একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষভাবে সক্ষম জনগোষ্ঠীদের নিয়ে সমাজের  নানাপ্রকার নেতিবাচক ধারণা দূর করার লক্ষ্যে শিল্পকলাকে একটা মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে সমতা, বৈচিত্রে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদেও প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণে কাজ করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বর্তমানে এই নাটকের পাশাপাশি ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন উদ্যোগ ‘ডেয়ার’ (ডিজ্যাবিলিটি আর্টস: রিডিফাইনিং এমপাওয়ারমেন্ট) যা বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে নাট্টকর্মশালা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভিন্নভাবে সক্ষম এই শিল্পীদের মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে।