kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

কালের কণ্ঠে সংবাদের পর নজরদারি

সেই ট্রলার মালিক আইসের আরেক চালানসহ গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা   

২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রায় ৯ মাস আগে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যাকাণ্ডের দিন প্রায় এক বস্তা আইস আটকের পর পুলিশের কয়েকজন সদস্য তা গায়েব করে দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। এরপর নজরদারি করে র‌্যাব ওই চালানটি বহনকারী ট্রলার মালিককে দুই কেজি আইসসহ গ্রেপ্তার করেছে।

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইতলী গ্রামের বায়তুল রহমান জামে মসজিদ এলাকা থেকে মোহাম্মদ হোসেন (৪৪) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। হোসেন বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ার কালা মিয়ার ছেলে। কিন্তু পালিয়ে যান এই কারবারের মূল হোতা একই এলাকার মৃত নবী হোসেনের ছেলে মো. রশিদ (৫০)। অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-১৫-এর কর্মকর্তারা বলেছেন, চীন থেকে থাইল্যান্ড হয়ে গ্রিন টি নামের চা-পাতার প্যাকেট করে ভয়ংকর মাদকদ্রব্য আইস বা ক্রিস্টাল মেথ আনছেন রশিদ। তাঁর এই চালান পরিবহনের সহযোগী মোহাম্মদ হোসেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব জানতে পেরেছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমার থেকে গ্রিন টির প্যাকেটে লুকিয়ে আইস নিয়ে আসছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ কালের কণ্ঠে ‘ইয়াবার রুটেই আসছে আইস’ প্রধান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ওই সংবাদে সিনহা হত্যাকাণ্ডের দিন আইসের চালান আটকের পর তা গায়েব করার বিষয়ে সন্দেহ, নোয়াখালীপাড়ায় আইস সেবনে একজনের মৃত্যু এবং ৩ মার্চ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে প্রথমবারের মতো দুই কেজি আইস জব্দ, এক বছর ধরে তিনটি রুটে আইসপাচারের তথ্য উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর র‌্যাব নজরদারি করে নোয়াখালীপাড়ায় মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অন্যদিকে ২৩ দিনের ব্যবধানে চার কেজি আইস উদ্ধারের ঘটনায় ডিএনসিও পাচারের নতুন কিছু তথ্য পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি কেজি আইসের আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ছয় কোটি টাকা। ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট থাইল্যান্ড-মিয়ানমার রুটে এখন আইসের কারবার শুরু করেছে বলে তথ্য পেয়েছেন তাঁরা।

র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী সাংবাদিকদের জানান, আটক হোসেনের হাতে থাকা বাদামি রঙের শপিং ব্যাগের ভেতর চীনের তৈরি দুটি জলপাই রঙের গ্রিন টির প্যাকেট উদ্ধার করা হয়, যার ভেতরে বিশেষভাবে রক্ষিত দুই কেজি আইস পাওয়া যায়।

একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ৩১ জুলাই মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালীপাড়া সৈকতে মোহাম্মদ হোসেনের ট্রলার থেকে প্রায় ১৩ কেজি ওজনের একটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই বস্তায় ১০টি কার্টন ছিল। বস্তাটি জব্দ করে নিয়ে যান টেকনাফ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম। সঙ্গে তিনি হোসেন নামের এক জেলেকে ধরে নিয়ে যান, যিনি পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। সেদিন আটক বা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি চালানটি বহনকারী ট্রলার মালিক মোহাম্মদ হোসেনকে।

পরবর্তী সময় ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের ধারণা, জব্দ না দেখিয়ে শত কোটি টাকার আইস গায়েব করা হয়েছে। এতে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ লিয়াকত আলী ও এসআই নিজাম জড়িত। গত ১২ মার্চ টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘ওই সময় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। এজাতীয় কিছু জব্দ দেখানো হয়নি। একটি কথা আমি যোগদানের পর লোকমুখে শুনেছি।’ টেকনাফ থানায় গত বছর নিজাম নামের দুজন এসআই কর্মরত থাকলেও কে ওই অভিযানে গেছেন তার হদিস মেলেনি। ৩১ জুলাই নোয়াখালীপাড়ার বাসিন্দা এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা ঘটনার ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘যে লোক (হোসেন) থানায় খবর দিয়েছিল, তাকেই ধরে নিয়ে ৫৪ ধারায় চালান দেয় পুলিশ। তাকে ছাড়াতেই আমি বারবার ফোন দিই।’ সম্প্রতি আবার ইলিয়াস কোবরার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।