kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন

দাঁতের যত্নে মানুষ এখন সচেতন

১৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের কণ্ঠ : চিকিৎসার প্রশ্ন উঠলেই সচেতনতার প্রশ্ন আসে। কথায় বলে, দাঁত থাকতে কেউ দাঁতের মর্ম বোঝে না। এখন বাস্তবতা কী, মানুষ কি এখন দাঁতের যত্ন নেয়?

ডা. নাসির উদ্দিন : এখন আগের অবস্থা আর নেই। মানুষ দাঁতের যত্নে অনেক সচেতন হয়েছে। বিভিন্নভাবে এই সচেতনতা বাড়ছে। বিভিন্ন টুথপেস্ট কম্পানি ও মিডিয়ায় প্রচার থেকেও মানুষ সচেতন হচ্ছে। এখন গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ আসে দাঁতের চিকিৎসার জন্য। এখন মানুষ যেমন স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে, আবার প্রয়োজনে যে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সেটাও জানে।

কালের কণ্ঠ : প্রায় সব সেক্টরেই অগ্রগতি-উন্নয়ন ঘটছে, ডেন্টাল সেক্টরের কী অবস্থা?

ডা. নাসির : অবশ্যই দেশে ডেন্টাল সেক্টরে অসাধারণ উন্নতি ঘটেছে। ডেন্টাল ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় শিক্ষার মান ও পরিধি বেড়েছে, দক্ষ জনবলও বেড়েছে। বিশ্বমানের চিকিৎসা সরঞ্জামে এখন দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা হয়।

কালের কণ্ঠ : সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা আছে দাঁতে পোকা ধরে; আসলে বিষয়টি কী?

ডা. নাসির : মূলত খাওয়ার পরে ঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে খাবারের ক্ষুদ্রাংশ দাঁতের ফাঁকে আটকে থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়, যা থেকে দাঁতে ক্যাভিটি তৈরি হয়। ঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করলে এটা আর হতে পারে না।

কালের কণ্ঠ : দাঁতের সেনসিটিভিটি এখন বেশ পরিচিত; এটা কিভাবে বোঝা যায়?

ডা. নাসির : ফাস্টফুড অনেকটাই এসিডযুক্ত খাবার। এসব খাওয়ার পর দাঁতের এনামেলে এক ধরনের ক্ষয় হয় বা দাঁতের ওপর অংশে যে আবরণ থাকে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে আবরণহীন দাঁতে যখনই ঠাণ্ডা বা গরম কিছু পড়ে তখনই অস্বাভাবিক স্পর্শকাতর অনুভূতি হয়। প্রতি তিনজনে একজন এ সমস্যায় ভুগছেন বলে তথ্য রয়েছে।

কালের কণ্ঠ : ‘বিডিএস না তো দাঁতের ডাক্তার না’—কেন এ ধরনের প্রচারণা?

ডা. নাসির : অনেকেই আমাদের চেম্বারে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে নিজেরাই ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চেম্বার খুলে বসেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন। এর মাধ্যমে মানুষ বিপদে পড়ে। এ জন্যই এই প্রচারণা চালানো উচিত।

কালের কণ্ঠ : মানুষ কিভাবে বুঝবে কেউ একজন আসল ডাক্তার কি না?

ডা. নাসির : আসল ডাক্তার হলে তাঁর বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল) রেজিস্ট্রেশন থাকবে। প্রয়োজনে সেটা ক্রসচেক করা যেতে পারে। তার পরও চিকিৎসা শুরুর আগে ও পরে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিএমডিসি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।



সাতদিনের সেরা