kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নন্দীগ্রামে ‘ধাক্কায় আহত’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নন্দীগ্রামে ‘ধাক্কায় আহত’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আলোচিত আসন নন্দীগ্রামে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের রানিচক এলাকায় একটি হরিনাম সংকীর্তনের অনুষ্ঠান থেকে বেরোনোর পথে পড়ে যান মমতা। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তাঁর মাথা, কপাল ও পায়ে চোট লেগেছে। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও মমতার পড়ে যাওয়াকে ‘নাটক’ বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, গতকাল দুপুরে হলদিয়ায় নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রামে ফিরে আসেন মমতা। নন্দীগ্রামে রাত কাটানোর কথা ছিল তাঁর। বিকেলে তিনি যান রানিচকের গিরির বাজার এলাকায়। সেখানে একটি মন্দিরে তিনি হরিনাম সংকীর্তনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকে বেরোনোর সময়ই পড়ে যান। মমতার ভাষ্য, ‘ভিড়ের মধ্যে চার-পাঁচজন বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছিল। ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আমাকে। ইচ্ছা করে ধাক্কা মারা হয়। এর পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল।’ পড়ে গিয়ে পা ফুলে গেছে বলেও জানান মমতা। পড়ে যাওয়ার পর মমতা আর হাঁটতে পারছিলেন না। তাঁকে পাঁজাকোলা করে গাড়িতে তোলা হয়। একটি দোকান থেকে বরফ নিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাঁ পায়ে। জড়িয়ে দেওয়া হয় কাপড়। মমতার দাবি, তাঁর বাঁ পা ফুলে গেছে। কপাল ও মাথায় চোট লেগেছে। জ্বরজ্বর ভাব আছে তাঁর।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নন্দীগ্রামে থাকার কথা ছিল মমতার। তবে আঘাতের কারণে গতকাল রাতেই তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে সড়কপথে কলকাতায় নেওয়া হয়। এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়।

এদিকে মমতার আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে মন্তব্য করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘মমতার সঙ্গে সাদা পোশাকে বহু পুলিশ থাকে। প্রধানমন্ত্রীর মতো নিরাপত্তা নিয়ে বেরোন। পদযাত্রার সময় ১০০ পুলিশ থাকে। স্কুটি চালানোর সময়ও তো কত পুলিশ ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজ নিরাপত্তা ছিল না, এটা কি মানা যায়? আঘাত পেয়েছেন। অবশ্যই সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে এ নিয়ে তিনি রাজনীতি করছেন, মানুষের সহানুভূতি আদায় করছেন। সিবিআইর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

একই সুরে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুলিশমন্ত্রী বলছেন, পুলিশ ছিল না। পুলিশ না থাকা অবস্থায় হামলা হলো! এটা অসম্ভব। এটা নির্বাচনী গিমিক। একটা সমবেদনা তৈরি করা।’

এসব প্রশ্নকে পাত্তা দিতে নারাজ তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেন, ‘মমতা মানুষের সঙ্গে মেশেন। সেই সুযোগ নিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের অধীনে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তা নেওয়া হয়নি। পুলিশ এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’

পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে আছে কলকাতা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের নন্দীগ্রাম আসনটি। এখানে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দলটির নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিপরীতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে লড়ছেন মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর ও শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী।



সাতদিনের সেরা